আদালতে গিয়েও বোল্টনের ‘সর্বনাশা’ বই আটকাতে পারেননি ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনের লেখা একটি বইয়ের প্রকাশ আটকের দেওয়ার জন্য যে অনুরোধ করেছিলেন একজন বিচারক তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

ওই বইতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিয়ে বেশ কিছু ‘মারাত্মক দাবি’ করেছেন বোল্টন যা আসন্ন নির্বাচনে তার ‘সর্বনাশের কারণ’ হতে পারে।

বিবিসি বাংলা জানায়, বিচার বিভাগের যুক্তি ছিল বইটিতে যেসব বিষয় রয়েছে তা ছাপানোর আগে যথাযথভাবে যাচাই করে দেখা হয়নি।

ওয়াশংটন ডিসিতে আমেরিকার ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক রয়েস ল্যামবার্থ বলেন, বোল্টন আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে একটা ‘জুয়া খেলেছেন’ এবং ‘দেশকে ক্ষতির মুখে ফেলেছেন’।

কিন্তু তিনি তার রায়ে বলেছেন, প্রকাশনাটিতে ‘নিরাপত্তাজনিত যেসব উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, ইঞ্জাংশনই যে তার যথাযথ প্রতিকার যুক্তরাষ্ট্রের সরকার তা প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।’

বোল্টনের বই- ‘দ্য রুম হোয়্যার ইট হ্যাপেন্ড (যে ঘরে এসব ঘটেছে)’ বাজারে আসছে ২৩ জুন। বোল্টন এই বইয়ে ট্রাম্পকে এমন একজন প্রেসিডেন্ট হিসাবে তুলে ধরেছেন, যার সব সিদ্ধান্তের পেছনে উদ্দেশ্য একটাই- নির্বাচনে দ্বিতীয় মেয়াদে জয়লাভ করা।

এই বইয়ে বোল্টন যেসব দাবি করেছেন তার বেশিরভাগেরই ভিত্তি ব্যক্তিগত কথাবার্তা এবং ফলে সেগুলো যাচাই করা অসম্ভব।

ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যেই বোল্টনের এসব দাবি নাকচ করার চেষ্টা করেছে। ট্রাম্প বলেছেন, এই বই ‘মিথ্যা কাহিনি এবং আষাঢ়ে গল্পে ভরা’।

বইয়ে যেসব অভিযোগ বা দাবি রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

১. প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যাতে জিততে পারেন তার জন্য চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাহায্য চেয়েছেন।

তিনি লিখেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট কৃষকদের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন এবং নির্বাচনী ফলাফল প্রভাবিত করতে চীনে সয়াবিন এবং গমের বিক্রি বাড়িয়ে দিয়েছেন।’

২. ট্রাম্প বলেছেন, শিনজিয়াং এলাকায় মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের বন্দিশিবিরে আটকে রাখার চীনা ‘সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল’।

৩. প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফৌজদারি তদন্তকাজে নাক গলাতে আগ্রহ দেখিয়েছেন। ট্রাম্প তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানকে বলেছিলেন তিনি নিজে এই তদন্তের দেখভাল করবেন।

৪. ট্রাম্প বলেছিলেন, ভেনেজুয়েলা আক্রমণ করলে ‘দারুণ’ হবে এবং দক্ষিণ আমেরিকার ওই দেশটি ‘আসলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরই অংশ’।

৫. ট্রাম্প জানতেন না ব্রিটেন পরমাণু শক্তিধর দেশ এবং একবার তার ঊর্ধ্বতন একজন সহযোগীকে জিজ্ঞেস করেছিলেন ফিনল্যান্ড রাশিয়ার অংশ কিনা।

৬. ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি যাতে দুই মেয়াদের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারেন, তার জন্য প্রয়োজনীয় সংবিধান সংশোধনের ব্যাপারে আমেরিকানরা খুবই আগ্রহী।