চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সমিরুল ইসলাম বাবু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। করোনা মুক্ত হলেও সংক্রমণের ফলে ফুসফুস আক্রান্ত হওয়ার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। চট্টগ্রামে তিনিই প্রথম প্লাজমা গ্রহণকারী।
বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি চমেক হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ছিলেন। মানবিক চিকিৎসক হিসেবে সমিরুল চট্টগ্রামে জনপ্রিয়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালের রেজিস্ট্রার ডা. নূর নবী বলেন, উনাকে গত ১৩ জুন আমাদের হাসপাতালের ৫১৫ নম্বর কেবিনে ভর্তি করা হয়। এর আগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে তিনি চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত ৩১ মে রির্পোট নেগেটিভ আসে। তবে করোনা সংক্রমণের ফলে উনার ফুসফুসে ইফেক্টেড হয়। করোনামুক্ত হওয়ার পর আমাদের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। তবে উনাকে অক্সিজেন সার্পোট দেওয়া হতো। হঠাৎ বুধবার সকালে উনার সেচুরেশন কমে গিয়ে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
তিনি আরও বলেন, সেখানে ভেন্টিলেটর সাপোর্ট দেওয়া হলেও উনার অক্সিজেন সেচুরেশন ৪০ এর উপর উঠছিল না। দুপুর আড়াইটার দিকে সেখানে তিনি মারা যান। ডা. সমিরুলের রির্পোট নেগেটিভ আসলেও আগে তো পজেটিভ ছিল, করোনা পজেটিভের সময় ফুসফুসের যে ক্ষতি হয়ে গেছে তা আর রিকোভার হয়নি।
জানা যায়, ডা. সমিরুল ইসলাম করোনা আক্রান্ত হয়ে ১১ দিন বাসায় চিকিৎসা নিয়েছেন। পরে গত ২১ মে তাকে চমেক হাসপাতালের একটি কেবিনে আইসোলেশনে চিকিৎসা দেওয়া হয়। গত ২৬ মে সকালের দিকে তার অক্সিজেনের সেচুরেশন কমে গেলে তাকে অক্সিজেন সার্পোট দেওয়া হয়। সেদিনই এই চিকিৎসককে প্লাজমা থেরাপি দেয়া হয়। এরপর তিনি কিছুটা সুস্থও হয়ে মেট্রোপলিটন হাসপাতালের কেবিনে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।