দেশে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের রেকর্ড

করোনা সংকটের মধ্যেও দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ফের রেকর্ড গড়েছে। প্রথমবারের মত বুধবার বাংলাদেশের রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করল।

এর আগে এ মাসেই রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়নের ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে। ভালো রেমিটেন্স এবং বিদেশি সংস্থার ঋণের কারণে রিজার্ভ বাড়ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, এর আগে গত ৩ জুন প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে। আজ বুধবার দিনশেষে রিজার্ভের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক শূন্য ৯ বিলিয়ন ডলার বা তিন হাজার ৫০৯ কোটি ডলার।

কেন্দ্রিয় ব্যাংক বলছে, মূলত প্রবাসীদের রেমিটেন্স পাঠানোর কারণে রিজার্ভ বাড়ছে। এর বাইরে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবি থেকে বৈদেশিক মুদ্রার ঋণ আছে। এর ফলে রিজার্ভ বাড়ছে।

রেমিটেন্স বৃদ্ধির সম্পর্কে জানা যায়, লক ডাউনের কারণে হুন্ডি একেবারেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বন্ধ হয়ে গেছে। হুন্ডি কারবারীরা মানুষের কাছে গিয়ে গিয়ে অর্থ সংগ্রহ করত। চলাফেরায় বিধিনিষেধ থাকায় প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স বেশি পাঠাচ্ছেন। এছাড়া কিছু প্রতিষ্ঠানের টাকা আসছে যেগুলো সাধারণ জুন মাসেই এসে থাকে। অন্যদিকে নানা কারণে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন এমন প্রবাসীরা আগের জমানো টাকা দেশে পাঠাচ্ছেন।

এর আগে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছিল ২০১৭ সালের ২২ জুন। এরপর থেকে রিজার্ভ ৩২ থেকে ৩৩ বিলিয়ন ডলারের ঘরে উঠানামা করছিল। তবে করোনাভাইরাসের সময়ে ডলারের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় একের পর এক রেকর্ড হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাস পর্যন্ত প্রবাসীরা মোট ১ হাজার ৬৩৬ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। আগের বছরের একই সময় পর্যন্ত এসেছিল এক হাজার ৫০৫ কোটি ডলার। এ হিসেবে মে পর্যন্ত রেমিট্যান্স বেশি আছে ১৩১ কোটি ৩০ লাখ ডলার বা ৮ দশমিক ৭২ শতাংশ। গত মার্চ থেকে মে পর্যন্ত টানা তিন মাস রেমিট্যান্স কমার পরও এ হারে প্রবৃদ্ধি আছে। করোনাভাইরাসের প্রভাব শুরুর আগে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অবশ্য রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি ছিল ২০ দশমিক ২০ শতাংশ। রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি থাকলেও রপ্তানির পাশাপাশি আমদানি দায় পরিশোধও একেবারে কমেছে। যে কারণে রিজার্ভ বাড়ছে।

চলতি অর্থবছরের মে পর্যন্ত রপ্তানি আয় দেশে এসেছে তিন হাজার ৯৬ কোটি ডলারের। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা প্রায় ১৮ শতাংশ কম। এর মধ্যে মে মাসে রপ্তানি কমেছে ৬১ দশমিক ৫৭ শতাংশ। আর গত এপ্রিলে কমেছিল ৮৩ শতাংশ। গত এপ্রিল পর্যন্ত আমদানি হয়েছে ৪ হাজার ৬৪৪ কোটি ডলারের পণ্য। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ কম।