সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
চতুর্থ অধ্যায়
১. যূথী ও বীথি ঈদের ছুটিতে দাদার বাড়ি সোনারগাঁ বেড়াতে গেল। ছোট চাচার কাছে পুরনো নিদর্শনগুলো দেখার বায়না ধরল। চাচা তাদের জামদানির জন্য বিখ্যাত স্থানটি ঘুরতে নিয়ে গেলেন। তারা সেখানে বিভিন্ন পুরাকীর্তি, স্থাপনা ও নকশা দেখে মুগ্ধ হয়ে গেল। চাচা তাদের পরে বিভিন্ন পুরাকীর্তিগুলোর নিদের্শন দেখাতে নিয়ে যান। যাতে তারা ইতিহাস অতীত ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারে।
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি কোথায় অবস্থিত?
খ) প্রত্নতত্ত্ব বলতে কী বোঝায়?
গ) তারা যে স্থানটিতে গিয়েছিল তার ইতিহাস ঐতিহ্য ব্যাখ্যা করো।
ঘ) চাচা তাদের কোথায় নিলে তারা ইতিহাস ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন হতে পারবে তা পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর :
(ক) কুষ্টিয়ার শিলাইদহে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিজড়ানো কুঠিবাড়ি অবস্থিত।
(খ) প্রত্ন অর্থ পুরনো বা প্রাচীন আর তত্ত্ব অর্থ জ্ঞান। শাব্দিক অর্থে প্রত্নতত্ত্ব বলতে পুরনো সময়ের বা প্রাচীন দ্রব্য সম্পর্কিত জ্ঞানকে বোঝায়। প্রত্নতত্ত্বের ইংরেজি প্রতিশব্দ আরকিওলজি। অর্থ প্রাচীন দ্রব্য সম্পর্কিত জ্ঞান। বস্তুগত নিদর্শনের ভিত্তিতে অতীত পুনর্নির্মাণ করার বিজ্ঞানকে প্রত্নতত্ত্ব বলে। প্রতœতাত্ত্বিকদের মতে, অতীত যুগের মানুষের ব্যবহার্য দ্রব্যসামগ্রীর ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সে যুগের মানুষের সমীক্ষা বা অধ্যয়ন করাই হলো প্রতœতত্ত্ব। বাংলায় প্রতœতত্ত্ব চর্চার সূচনা হয় উনিশ শতকের দ্বিতীয় ভাগে।
(গ) তারা যে স্থানটি পরিদর্শন করে সেটি সোনারগাঁ। প্রতœনিদর্শনের কারণে এই শহরের ঐতিহ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুলতানি আমলে বাংলার রাজধানী ছিল সোনারগাঁ। মসলিনও জামদানি শাড়ির উৎপাদন ও ব্যবসাকেন্দ্র হিসেবে এর খ্যাতি ছিল। সোনারগাঁয়ের পানামনগরে ধনী ব্যবসায়ীরা মূল সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে অনেক ইমারত নির্মাণ করেন। পানামনগরে এখনো এ রকম ৫২টি ইমারত টিকে আছে। এলাকার নিরাপত্তার জন্য পানামের অধিবাসীরা ইমারতগুলোর চারপাশ ঘিরে পরিখা খনন করেছিল। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই ভবনগুলোতে ইউরোপীয় স্থাপত্যরীতি অনুসরণ করা হয়। তবে এদের নির্মাণ কলায় মুঘল স্থাপত্যেরও প্রভাব রয়েছে। পানামের আশপাশে আরও কয়েকটি চমৎকার ইমারত এখনো টিকে আছে। এগুলো তৈরি করেছিলেন স্থানীয় জমিদার ও ব্যবসায়ীরা। এগুলোর মধ্যে সরদার বাড়ি, আনন্দমোহন পোদ্দারের বাড়ি ও হাসিময় সেনের বাড়ি উল্লেখযোগ্য।
(ঘ) যূথী ও বীথির চাচা তাদের জাদুঘরে নিয়ে গেলে, তারা সেখানে সংরক্ষিত প্রত্নসম্পদ দেখে ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারবে। বাংলাদেশের পুরাকীর্তিগুলো থেকে পাওয়া অনেক প্রত্ননিদর্শন জাদুঘরে সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করা হয়। যূথী ও বীথির চাচা তাদের এসব প্রত্নসম্পদ দেখাতে নিয়ে গেলে তারা সেগুলো দেখে দেশের পুরনো ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারণা লাভ করে। সোনারগাঁয়ের জাতীয় জাদুঘর ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জাদুঘরেও রয়েছে প্রচুর প্রত্নসম্পদ। জাতীয় জাদুঘরের গ্যালারিতে প্রত্ননিদের্শনের সঙ্গে প্রদর্শন করা হয়েছে বাংলার নবাব, জমিদার ও ইংরেজ শাসনামলের বেশ কিছু প্রত্নসম্পদ। কোনো কোনো আঞ্চলিক জাদুঘর ও সংগ্রহশালায় নানা প্রত্ননিদর্শন প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে। অধিকাংশ সংগ্রহশালাই জমিদারদের পুরনো প্রাসাদে অবস্থিত। জমিদারদের ব্যবহার করা নানা দ্রব্য ও তাদের সংগ্রহ করা প্রতœসম্পদ সেখানে প্রদর্শন করা রয়েছে।