করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরকার গণপরিবহন চালুর অনুমতি দিলেও চট্টগ্রামে এসব মানা হচ্ছে না। চালক-হেলপাররা নিয়মের বিষয়ে উদাসীন। বেশিরভাগ যাত্রী সুরক্ষাসামগ্রী ছাড়াই ভ্রমণ করছেন। এতে নগরীর সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত বুধবার পর্যন্ত চট্টগ্রামে ৭ হাজার ২০০ রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৫৫ জনের। প্রত্যেক দিনই আক্রান্ত বাড়ছে। আক্রান্তের তুলনায় মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ছে না বলে জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি।
সরেজমিনে গত বুধবার চট্টগ্রাম নগরের বাদুরতলা, বহদ্দারহাট, চকবাজার, মুরাদপুর, চান্দগাঁও, ২নং গেট, জিইসি, বিআরটিসি বাস টার্মিনাল, আন্দরকিল্লা, নিউ মার্কেটসহ বিভিন্ন সড়ক ও বাস কাউন্টার ঘুরে দেখা যায়Ñ সড়কে সিটি বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, লেগুনা ও টেম্পু চলাচল করছে। এসব পরিবহনে স্বাভাবিক সময়ের চেয়েও যাত্রী কম। বাসে দুই সিটে একজন বসলেও তাদের বেশিরভাগের মুখে মাস্ক দেখা যায়নি। অনেকে মুখ থেকে সরিয়ে অথবা কানে ঝুলিয়ে রেখেছেন। বাসচালক ও হেলপারদের দু-একজন মাস্ক পরলেও অন্যরা তোয়াক্কা করছেন না।
মাস্ক না পরার বিষয়ে ১০নং রোডের বাসচালক সাইফুদ্দিন আহমেদ জানান, মাস্ক পরলে তার দম বন্ধ হয়ে আসে। এজন্য খুলে পকেটে রেখেছেন। যাত্রীরাও এখন তেমন একটা পরেন না। তিনি আরও জানান, বাস চালানোর সুযোগ পেলেও যাত্রী কম। ৬০ শতাংশ বাড়িয়ে ভাড়া নিয়েও পোষাচ্ছে না। এই বাসের এক যাত্রী জানান, নিজে সচেতন হয়ে মহামারী থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে না। বেশিরভাগ যাত্রী সচেতন নন। তারা মাস্কটাও পরছেন না। এজন্যই চট্টগ্রামে দিনকে দিন সংক্রমণ বেড়ে চলেছে।
নগরের ১নং সড়কের (বহদ্দারহাট-নিউ মার্কেট) টেম্পুগুলো দুই সারিতে ৬ যাত্রী বসানোর কথা থাকলেও ৮-১০ জন বহন করছে। চালকের দুই পাশেও দুজন থাকছেন। শারীরিক দূরত্ব নেই, উল্টো মাস্ক না পরায় ঝুঁকি বাড়ছে।
অবশ্য স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে নগরীতে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান অব্যাহত রেখেছে। গত ১ জুন থেকে নগরীতে এ-সংক্রান্ত দুই শতাধিক মামলা হয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়নি।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিরিন আক্তার দেশ রূপান্তরকে জানান, গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে নগরজুড়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালাচ্ছে। এসব অভিযানে যাত্রীদের মধ্যে মাস্ক ব্যবহারের প্রবণতা খুবই কম দেখা গেছে। অনেকে মাস্ক কাছে রাখলেও মুখে দিচ্ছেন না। তাদের সতর্ক করা হচ্ছে। একেবারেই যারা ব্যবহার করছেন না তাদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘প্রতিদিনই আক্রান্ত বাড়ছে। আক্রান্তের তুলনায় মানুষের মধ্যে সচেতনতা না বাড়া দুঃখজনক। এভাবে চললে সামনে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।’