ইউরোপে ন্যাটোর নতুন রাজনীতি!

ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন ন্যাটো মহাসচিব ইয়েনস স্টলটেনবার্গ। এই সঙ্গে ন্যাটোতে জার্মানিকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ন্যাটোকে ইতিহাসের সবচেয়ে সফল সামরিক জোট হিসেবে উল্লেখ করে এর সক্রিয়তা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কয়েক দিন আগেই ন্যাটোর শর্ত অনুযায়ী প্রতিরক্ষা বাজেট না বাড়ানোয় জার্মানির সমালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জার্মানি থেকে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন। পাশাপাশি তিনি জার্মানিকে ‘কর্তব্যবিমুখ’ বলেও অভিযুক্ত করেন। তবে জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আনেগ্রেট ক্রাম্প-কারেনবাউয়ার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাস ট্রাম্পের ঘোষণার সমালোচনা করেছেন।

ডয়েচে ভেলে বলছে, ট্রাম্পের এই ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা সংখ্যা ২৫ হাজারে নেমে আসবে।

এই প্রেক্ষিতে ন্যাটোর মহাসচিব বলেন, ন্যাটো সদস্যদের মধ্যে সবসময় মতপার্থক্য ছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও ন্যাটো ইতিহাসের সবচেয়ে সফল জোট। এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্টলটেনবার্গ জানান, ন্যাটো গঠনের মূল লক্ষ্য ছিল সদস্য রাষ্ট্রগুলোর একে অন্যকে রক্ষা করা। এই কাজ করতে গিয়ে সবাই সবসময় একমতে পৌঁছেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির মধ্যে এখন যে মতের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে তা কেটে যাবে বলে আশা করেন ন্যাটো মহাসচিব।

তিনি বলেন, গত সপ্তাহে ন্যাটোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের এক বৈঠক হয়েছে। সেখানে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, জার্মানি থেকে সেনা সরানোর ব্যাপারে প্রেসিডেন্টের ঘোষণা বাস্তবায়নের সময়সীমা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

ন্যাটো মহাসচিব জানান, জার্মানি থেকে সেনা সরানোর ঘোষণার আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। সেই সময় তিনি ট্রাম্পকে জানিয়েছেন, ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি ন্যাটোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটা ইউরোপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

স্টলটেনবার্গ বলেন, ইউরোপে শান্তি ও স্থিতিশীলতা উত্তর আমেরিকার নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয়। আমাদের এটাও মনে রাখতে হবে যে, জার্মানি ও ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি শুধুমাত্র ইউরোপকে রক্ষা নয়, বরং ইউরোপ ছাড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, আফগানিস্তানসহ অন্যান্য জায়গায়ও যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি দেখানোর একটি বিষয়।

জার্মানি তার প্রতিরক্ষা বাজেট প্রায় ৪০ শতাংশ বাড়িয়েছে। আগামী এক দশকে বাজেট ৮০ শতাংশ বাড়ানোরও পরিকল্পনা করছে। এখনই ন্যাটোর সদস্যদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের পর জার্মানির প্রতিরক্ষা বাজেটই সবচেয়ে বেশি। এই অবস্থায় ন্যাটো মহাসচিবের ভাষ্য, বিশ্বের জন্য জার্মানির আরও নেতৃত্ব প্রয়োজন। ন্যাটোরও জার্মানির নেতৃত্ব প্রয়োজন রয়েছে। এটা সহায়তা করবে যুক্তরাষ্ট্রকেও।