সিরাজগঞ্জ জেলা শহরের নয়নমোড়ে সৈয়দ গালিব হোসেন তাপস (৪৯) নামে ঢাকার এক সংস্কৃতিকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর পর পুলিশে খবর না দিয়েই লাশ দাফনের প্রক্রিয়া চলছিল।
খবর পেয়ে পুলিশ বুধবার সন্ধ্যায় নয়নমোড়ের নিহতের মামা তারেক হোসেনের বাসা থেকে লাশ উদ্ধার করেন ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
এ বিষয়ে সদর থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে লাশটি বৃহস্পতিবার বিকেলে তাপসের মেয়ে সৈয়দা মাহাজুবা হোসেন টুপুরের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।
এ ঘটনায় মামুন ও ইব্রাহীম নামের দুই জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। পরে ৫৪ ধারায় তাদের আটক দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলহাজতে পাঠায়।
নিহত তাপস ঢাকার ফকিরাপুলের বাসিন্দা। তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলী গ্রামে। তাপস বেশ কিছু টিভি নাটক ও বিকল্প ধারার চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। ঢাকার সাংস্কৃতিক মহলে তিনি সুপরিচিত ছিলেন।
নিহতের মেয়ে সৈয়দা মাহাজুবা হোসেন টুপুর সাংবাদিকদের কাছে বলেন, পৈতৃক সূত্রে ঢাকা এবং সিরাজগঞ্জে তার বাবার বেশ কিছু সম্পত্তি রয়েছে। জমিজমা নিয়ে তাপসের ছোট ও মেজো চাচা এবং ছোট বোনের সাথে ঝামেলা ছিল। এরইমধ্যে ছাব্বিশা গ্রামের জমি বিক্রয়ের উদ্দেশে চারদিন আগে তাপস সিরাজগঞ্জ আসেন। সিরাজগঞ্জ এসেই তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়। সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে তাপসের আত্মীয়রা তার বাবাকে খুন করেছেন বলে অভিযোগ করেন টুপুর। এ সময় তাপসের কাছে থাকা জমির দলিল, চেকবই, ৮০ হাজার টাকা ও অন্যান্য জিনিসপত্রের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
সদর থানার ওসি হাফিজুল ইসলাম জানান, নিহতের মেয়ে সৈয়দা মাহাজুবা হোসেন টুপুরের অভিযোগের ভিত্তিতে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, দাদার জমাজমির ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে নিহত তাপস ও তার শরিকদের মধ্যে পূর্ব ঝামেলা রয়েছে বলে জানা গেছে।