করোনার সুযোগে সীমান্তে চোরাচালান বেড়েছে

সবাই যখন করোনা সংক্রমণের ঠেকাতে ব্যস্ত তখন মৌলভীবাজারের বড়লেখা-জুড়ি সীমান্ত দিয়ে বেড়ে গিয়েছে চোরাচালান। এই সীমান্ত দিয়ে প্রতিনিয়ত ভারতীয় মহিষ-গরুর পাশাপাশি মোটরসাইকেল, মদ, ইয়াবা থেকে হরলিক্স, সিগারেটসহ বিভিন্ন পণ্য চোরাচালান হয়ে আসছে।

মাঝে মধ্যে কিছু ধরা পড়ে। আবার নানা কায়দায় বেশিরভাগই বাজারজাত হয়। এই সীমান্ত দিয়ে মহিষ গরু আনতে গিয়ে গত এক বছরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে কয়েক দফায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন আহত হয়েছেন। নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

চোরাচালান নিয়ে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে প্রশাসনের স্থানীয় সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তা বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানোও হয়েছিল। কিন্ত তারপরও থেকে নেই চোরাচালান।

বিশেষ করে করোনা মহামারির সময় দুই দেশের চোরাকারবারীরা বিভিন্ন কৌশলে যাওয়া-আসা করছেন। এতে করে সংক্রমণেরও ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার বড়লেখা উপজেলার সদর ইউনিয়নের গঙ্গারজল এলাকা থেকে চোরাই পথে আশা ৩০টি ভারতীয় মহিষ আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারী দল পালিয়ে যায় বলে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বিয়ানীবাজার বিজিবি (৫২ ব্যাটালিয়ন) ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি টহলদল উপজেলার গঙ্গারজল এলাকায় অবস্থান নেয়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সীমান্ত এলাকা থেকে চোরাকারবারীরা বড়লেখা শহরের দিকে মহিষ নিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারীরা মহিষ রেখে পালিয়ে যায়। পরে বিজিবি টহলদল মালিকবিহীন অবস্থায় ৩০টি ভারতীয় মহিষ আটক করে। গঙ্গারজল এলাকাটি ভারত সীমান্তের ১৩৮২/৪- এস পিলার হতে ৭ কিলোমিটার অভ্যন্তরে।

এসব মহিষের আনুমানিক মূল্য ১৮ লাখ ২০ হাজার হাজার টাকা। আটককৃত মহিষগুলো জুড়ী কাস্টমস হাউজে জমা দেওয়া হয়। নিলামে পরে মহিষ ব্যবসায়ীরা এগুলো কিনে নেন বলে জানা গেছে।

এদিকে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বিজিবির হাতে আটক হওয়া মহিষগুলো ছাদ উদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ীর। তবে প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ মুখ খুলতে রাজি নয়। চোরাচালানের যারা সামনে থাকেন তারা ভাড়া করা মানুষ। তাদের কাজ শুধু মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে গরু-মহিষ বা পণ্য সীমান্ত পার করে দেওয়া।

সীমান্তবর্তী এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভারতে যারা পণ্য আনতে ঢুকে তাদের স্থানীয় ভাষায় দৌড়াল (সোর্স) বলে। এরা টাকার বিনিময়ে জীবনের ঝুঁকি নেয়। এদের কেউ কেউ ধরা পড়ে আহত হয়। কেউ গুলিতে মারা যায়। কিন্তু যারা নেপথ্যে টাকা বিনিয়োগ করে তারা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। রাত ১২টা থেকে ভোরের মধ্যে চোরাই পথে এসব মালামাল আনা হয়।

প্রতি রাতে ওপারের ব্যবসায়ীর সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীর মোবাইল ফোনে আলোচনার মাধ্যমে শুরু হয় মালামাল আনার প্রক্রিয়া। এরপর পণ্য আনার জন্য ব্যবসায়ীর বিশ্বস্ত দৌড়াল লোকজন জোগাড় করে সীমান্তের দিকে রওনা দেয়। পণ্য আনা-নেওয়াকে কেন্দ্র করে আবার দৌড়াল বা সোর্সদের মাঝে প্রায়ই মারামারির ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার বিজিবি ৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গাজী শহীদুল্লাহ বলেন, আমরা আমাদের টহল কার্যক্রম এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছি। আরও বৃদ্ধি করব। নজরদারি থাকায় বৃহস্পতিবার বড় একটি চালান আটক করা হয়েছে।