পটুয়াখালীতে প্রতিদিন বাড়ছে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা। মৃত্যুর তালিকায় যোগ হচ্ছে নতুন নতুন নাম। বাড়ছে নমুনা প্রদানকারীর সংখ্যা। কিন্তু পরীক্ষণের ল্যাব না থাকায় নমুনা সংগ্রহ করে পাঠাতে হচ্ছে বরিশাল কিংবা ঢাকায়। ফলাফলের জন্য অপেক্ষার দীর্ঘসূত্রিতায় আক্রান্তদের সংস্পর্শে প্রতিনিয়ত বাড়ছে সংক্রমণের ঝুঁকি। ফলে আরটিপিসিআর ল্যাব স্থাপনের দাবি জেলাবাসীসহ সংশ্লিষ্টদের।
গত ৭ এপ্রিল পটুয়াখালীতে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর থেকে প্রতিদিন গাণিতিক হারে বাড়ছে জেলার ৮টি উপজেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। বিদ্যমান ৮টি হাসপাতালের মাধ্যমে সন্দেহজনক সংক্রমিতদের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ ঢাকায় আইইডিসিসির ল্যাবে। এতে পরীক্ষার ফলাফল পেতে কমপক্ষে ৫-১৫দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যানুযায়ী, করোনার উপসর্গ অনুভব করায় ১৬ জুন নমুনা প্রদান করেন বাউফল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিচুর রহমান বালি। ১০ দিন পড়ে ২৬ জুন তার ফলাফল পজিটিভ আসে। কুয়াকাটার ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্য আমিনুল (২৩) ও রাব্বিকুলের (২১) নমুনা সংগ্রহ করে ১৯ জুন পাঠালে ২৬ জুন তাদের রিপোর্ট পজিটিভ আসে।
একইভাবে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসক, বগা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দুই পুলিশ সদস্য, এক স্বাস্থ্যকর্মীসহ এক ব্লাড ব্যাংকের কর্মীর ১৬ জুন নমুনা প্রদান করলে ১০ দিন পড়ে তাদের ফলাফল পজিটিভ আসে।
ফলাফল প্রাপ্তির এ দীর্ঘসূত্রিতায় আক্রান্তদের অজান্তে পরিবারসহ পরিচত জনদের মাঝে মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রমণ। পাশাপাশি সংক্রমিতদের চিকিৎসা সেবা দিতে দেরি হওয়ায় ঝুঁকি বাড়ছে তাদের মৃত্যুর।
এছাড়া পর্যটন নগরী কুয়াকাটা, পায়রা সমুদ্র বন্দর, পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র, দেশের বৃহৎ সামুদ্রিক মাছের বিশাল মোকামের কারণে বছরজুড়ে পুরো জেলায় বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কাজ করছে কয়েক হাজার দেশি-বিদেশি শ্রমিক। এতে করে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরো বাড়ছে উপকূলীয় এ জেলার ১৬ লাখের অধিক মানুষের।
জেলায় প্রথম করোনা সংক্রমণকারী মারা যায় ২৯ এপ্রিল। জেলায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১৬ জন। উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১৯ জন। এ পর্যন্ত আক্রান্ত ৩১৬ জন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১৬ জন। হোম কোয়ারেন্টাইনে চিকিৎসায় আছে ২১০ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে ৫৫ জন।
সিনিয়র ল্যাব টেকনিশিয়ান হাফিজুর রহমান বলেন, প্রতিদিন নমুনা প্রদানকারীর সংখ্যা বাড়ছে। ফলাফল পেতে দেরি হওয়ায় নমুনা প্রদানকারীরা প্রতিদিন ফোন করছে। অনেকের কথায় চরম বিব্রত হতে হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. চিন্ময় হাওলাদার বলেন, পটুয়াখালীসহ পার্শ্ববর্তী জেলা বরগুনার সংক্রমিতদের মাধ্যমে নতুন করে সংক্রমণ রোধে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অথবা পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রো বায়োলোজি ল্যাবে আরটিপিসিআর ল্যাব স্থাপন এখন সময়ের যৌক্তিক দাবি।
পটুয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম শিপন বলেন, আরটিপিসিআর ল্যাব স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।