অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতার কারণে মেস ছাড়তে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের বাধার মুখে পড়েন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের শিক্ষার্থী মজনু।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার অনিশ্চয়তায় মেস ছাড়তে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বগুড়া থেকে ময়মনসিংহের ত্রিশালে আসেন সেই শিক্ষার্থী। তাৎক্ষণিক ভাড়া দিতে না পারায় মেসে প্রবেশ করতে দেননি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ত্রিশালের ক্ষণিকা ছাত্রাবাসের মালিক ড. মো. সাইফুল ইসলাম।
করোনা চলাকালীন চার মাসের ভাড়া পরিশোধ করতে না পারলে মেসে ঢুকতে না দেয়ার জন্য মেসের কেয়ারটেকারকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান অভিযোগকারী শিক্ষার্থী। যার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মেসের কেয়ারটেকার আব্দুল আজিজ।
মেস মালিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ড. মো. সাইফুল ইসলামকে ফোন দিয়ে অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে শিক্ষার্থী মেস ছাড়ার কথা বললে শিক্ষক বলেন, ‘পুরো টাকা পরিশোধ করে জিনিস নিয়ে যাও তার আগে নয়।’
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন ও মেস মালিকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩৩ শতাংশ ভাড়া মওকুফের কথা বললে তিনি বলেন, এটা কোনভাবে সম্ভব নয়। আমি তোমায় পরে জানাচ্ছি। মালিককে না জানিয়ে রাতে কেয়ারটেকার শিক্ষার্থী মজনুকে থাকতে দেন। পরবর্তীতে মজনু নামের শিক্ষার্থী পরদিন ২৬ জুন বিকাশে টাকা উত্তোলন করতে গেলে মেস মালিক সেই তালা পরিবর্তন করে ফেলেন।
‘পুরো ভাড়া না দিলে কোনভাবেই যেতে দিতে না করেছে স্যার’ এমনটাই বললেন আব্দুল আজিজ।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধানের মধ্যস্থতায় শিক্ষার্থী মজনু ৬৭ শতাংশ ভাড়া পরিশোধ করে মেস ছেড়ে দেন।
শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের বিষয়ে ফোনে জানতে চাইলে ফোকলোর বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি বাইরে এইনিয়ে এখন কথা বলতে পারবো না।
পরবর্তীতে আবার জানতে চাইলেও তিনি এড়িয়ে জান।
এ বিষয়ে প্রক্টর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান বলেন, আমি অভিযোগকারী শিক্ষার্থীকে বলেছি নোটিশ মোতাবেক ৬৭ শতাংশ ভাড়া পরিশোধ করে মেস ছেড়ে দিতে।
শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এমন ঘটনা ঘটে থাকলে তা লজ্জার ও নিন্দনীয়। অফিসিয়ালি কেউ অভিযোগ করলে আমাদের সংগঠনের ফোরামে আলোচনা করে ব্যবস্থা নিবো। শিক্ষার্থীদের প্রতি আমাদের আন্তরিক হওয়া উচিত।’
ফোকলোর বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সাকার মুস্তাফা বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষণিকা মেস সংক্রান্ত যে সংবাদটি দেখেছি, তা যদি সত্য হয়, তবে বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অমানবিক। আমি মনে করি, এই মহামারীর সময়ে আমাদের আরও বেশি সংযত, ধৈর্য্যশীল ও মানবিক আচরণ করা উচিত। আর শিক্ষক হিসেবে আমাদের দায়বোধ আরও বেশি বলেই মনে করি। এই ঘটনাকে বিভাগের বিষয় দিয়ে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। মেস মালিক অন্য বিভাগের শিক্ষকও হতে পারতেন, এমনটি আছেও। সুতরাং, বিষয়টি উক্ত মেস মালিক ও শিক্ষার্থীর মধ্যকার সমস্যা। সে জন্যে প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতা নেয়া যেতে পারে।’