মহামারির মধ্যেও নানিয়ারচরের আম যাচ্ছে ইউরোপে

বাজারে আসতে শুরু করেছে আম। এই মধুফলে ঘুরছে রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচরের মানুষজনের অর্থনৈতিক চাকা। চলমান করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেও তাদের উৎপাদিত আম ইউরোপে রপ্তানি হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উপজেলার বগাছড়ি হতে ইতিমধ্যে ২ হাজার ৬০০ কেজি ল্যাংড়া, হিমসাগর ও আম্রপালি জাতের আম ইতালিতে এবং ৪০০ কেজি আম যুক্তরাজ্যে রপ্তানি করা হয়েছে। আরও সাড়ে ৮ হাজার কেজি আম রপ্তানির অর্ডার পাওয়া গেছে।

ইউরোপের পাশাপাশি এ উপজেলা থেকে চীনেও আম রপ্তানির চেষ্টা অব্যাহত আছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- “আশা করা হচ্ছে, এ মৌসুমে প্রায় ৭০-৮০ টন রপ্তানিযোগ্য আম এ উপজেলা থেকে সরবরাহ করা যাবে।”

পোকা-মাকড়ের উপদ্রব, কম ফলন এবং পরিচর্যার অভাবে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ায় কিছুদিন আগেও আম চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিল এই এলাকার চাষিরা। কিন্তু কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের’ সহযোগিতায় উপজেলায় ল্যাংড়া, হিমসাগর, আম্রপালি, মল্লিকাসহ অন্যান্য জাতের আমের চাষ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক মো. মেহেদী মাসুদ জানান, এ প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় হর্টিকালচার সেন্টারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে সংশ্লিষ্ট আম চাষিদের বাগানের নিবিড় পরিচর্যা, সার ও বালাইনাশক প্রয়োগসহ অন্যান্য বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে। এতে এ এলাকার আম বাগানের অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে এবং রপ্তানিযোগ্য আমের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রকল্প এলাকার কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য প্রকল্পের নিজস্ব ট্রাকের মাধ্যমে আম পরিবহন করা হচ্ছে।

সরকারের এই কর্মকর্তা জানান, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।