মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ফসলি জমি অধিগ্রহণের অভিযোগে প্রতিবাদ

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ফসলী জমি অধিগ্রহণের জন্য নোটিশ জারি করার প্রতিবাদে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় জমি মালিকেরা।

মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর প্রায় ১২টা পর্যন্ত জমি মালিকেরা সেখানে অবস্থান করে একাধিক কর্মসূচি পালন করেন। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অমান্য করে মিরসরাই উপজেলার দক্ষিণ মঘাদিয়া মৌজার প্রায় ৭০০ একর ফসলি কৃষি জমি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখলের নোটিশ জারির প্রতিবাদে দক্ষিণ মঘাদিয়া এলাকায় এই কর্মসূচী পালিত হয়। মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে প্রায় ২ হাজার জমির মালিক উপস্থিত ছিলেন। 

মঙ্গলবার সকাল ৯ টা থেকে মঘাদিয়া, মায়ানী ও সাহেরখালী ইউনিয়নের জমির মালিকেরা দক্ষিণ মঘাদিয়া এলাকার কাজির তালুক এলাকায় সমবেত হতে থাকেন। এসময় মিরসরাই থানার ওসি মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বিপুল পরিমাণ পুলিশ সেখানে অবস্থান নেয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরো উপস্থিত ছিলেন মিরসরাইয়ের সহকারি কমিশনার (ভূমি) রাশেদুল ইসলাম।

ওসি মুজিবুর রহমান মাইকে জমি মালিকদের সরে যেতে বললেও তারা সমাবেশ চালিয়ে যান। 

স্থানীয় জমি মালিক মাইনুল হোসেন রোকনের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সমাবেশে জমি মালিকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন মঘাদিয়া ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুর হোসেন।

তিনি বলেন, ৩০ হাজার একর জমি নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। যার ব্যপ্তি মিরসরাই, সোনাগাজি ও সীতাকুণ্ড পর্যন্ত। তবে অর্থনৈতিক অঞ্চলের বৃহত্তর অংশ মিরসরাইয়ে, যেখানে প্রাথমিক কাজ চলমান রয়েছে। ২০১৮ সালের ২৪ জানুয়ারি মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষি জমিতে শিল্প কারখানা না করার জন্য নির্দেশনা দেন। তার নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে ২০১৮ সালের ৭ মার্চ দক্ষিণ মঘাদিয়া মৌজার ৭০০ একর আবাদী জমি অধিগ্রহণের জন্য নোটিশ জারি করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ২০ মার্চ উক্ত নোটিশের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে আমরা আপত্তি জানালে ২০১৯ সালের ৬ মার্চ শুনানি হয়। ২০১৯ সালের ৩ এপ্রিল মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের একটি অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী কৃষি জমিতে কোন স্থাপনা না করার জন্য পুনরায় নির্দেশনা দেন। 

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ওই ঘোষণার পর অধিগ্রহণের কাজ এক বছর বন্ধ থাকলেও গত ৩১ মে উপরোক্ত মামলায় ধারা-৭ এর ১ উপধারার নোটিশ জারি করা হয়। আমরা মিরসরাই উপজেলার ১১ নম্বর মঘাদিয়া, ১৩ নম্বর মায়ানী, ১৬ নম্বর সাহেরখালী ইউনিয়নের ১০ হাজার মানুষ নিজেদের শেষ সম্বলটুকু রক্ষা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি। 

উপস্থিত ভূমি মালিক সালেহ আহমদ, একরামুল হক, মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদুল হক বলেন, আমাদের শেষ সম্ভবলটুকু যদি অধিগ্রহণ করে ফেলে তাহলে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে। এখানে আউশ, আমন ধানের পাশাপাশি রবিশষ্য ও শীতকালীন সবজী চাষ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী কৃষি জমিতে শিল্পকারখানা না করার ঘোষণা দেওয়ার পরও বেজা জমি অধিগ্রহণের জন্য উঠেপড়ে লেগেছে।

এ বিষয়ে মিরসরাইয়ের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রুহুল আমিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, সমাবেশের কথা জেনেছি। তাদের দাবির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।