চীনের আইন ভাঙলে হংকংয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

হংকংয়ের ওপর চাপানো নতুন ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি ল’তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রেখেছে চীন। চীনের আধা স্বায়ত্তশাসিত শহরটির বিরুদ্ধে মঙ্গলবার এই আইন পাস করে দেশটি।

মঙ্গলবার আইন পাস হলেও খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে পরে। বিবিসির বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, আইনে  ‘দেশদ্রোহিতা বা রাষ্ট্রদ্রোহিতা’ ঠেকানোর কথা বলা হলেও উদ্দেশ্য মূলত হংকংয়ের সব ধরনের আন্দোলন দমিয়ে রাখা।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডকে চীনের সাধারণ আইনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় নির্দিষ্ট একটি সময় পর প্যারোলে মুক্তি পাওয়া যায়। অনেক ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন আবার আ-মৃত্যু। হংকংয়ের ক্ষেত্রে সাজার ধরণ কেমন হবে, সেটি অবশ্য জানা যায়নি।

১৯৯৭ সালের এই জুলাই মাসেই ব্রিটিশদের থেকে মুক্ত হয়ে চীনের অধীনে আসে হংকং। শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার সময় চীন বেশ কিছু শর্ত দিয়েছিল। সেই শর্তের অধীনে হংকংবাসীর বেশ ‘স্বাধীনতা’ ছিল, অন্তত আন্দোলনের ক্ষেত্রে। চীনের সাধারণ মানুষও এতটা স্বাধীনতা পায়নি। নতুন আইনে সেই সুযোগ আর থাকছে না বললেই চলে।

হংকংয়ের চীনপন্থি নেতা ক্যারি ল্যাম এই আইনকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এবার জাতীয় নিরাপত্তার ত্রুটি সংশোধন হবে।

চীন সমর্থিত এই নারী রাজনীতিবিদ জানিয়েছেন, আইন নিয়ে মন্তব্য করার আগে তিনি খসড়া দেখেননি।

হংকংয়ের বিরোধীপক্ষের নেতা টেড হুই বিবিসিকে বলেন, ‘আমাদের অধিকার ছিনিয়ে নেয়া হচ্ছে। ব্যক্তিগত স্বাধীনতা শেষ হয়ে গেল। শেষ হয়ে গেল বিচারিক স্বাধীনতা।’

আইন পাসের পর যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ন্যাটো শঙ্কা প্রকাশ করার পাশাপাশি ক্ষুব্ধ মতামত জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগেই এই আইন বাতিলের আহ্বান জানানো হয়েছে।

নতুন আইনে যা আছে:

-বিদেশি শক্তির মদদে বিচ্ছিন্নতাবাদ, উগ্রবাদ এবং সন্ত্রাসবাদে জড়ালে সর্বনিম্ন তিন বছরের জেল। সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন।

-২৯ ধারায় বলা হয়েছে, সহিংসতায় উসকানি দিলেও অপরাধ বলে বিবেচিত হবে।

-গণপরিবহনে ভাঙচুর চালালে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে ধরা হবে।

-কেউ দোষী প্রমাণিত হলে সরকারি অফিসে কাজ করতে পারবেন না।

-বিদেশি বেসরকারি সংস্থা এবং সংবাদমাধ্যম পরিচালনার ক্ষেত্রে আরও কড়াকড়ি পদক্ষেপ নেয়া হবে।

-৩৮ ধারা অনুযায়ী হংকংয়ের প্রবাসীরা বিদেশে বসে এসব আইন ভাঙলেও অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হবেন।