রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদীতে এমভি ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় মনিং বার্ড নামক লঞ্চ ডুবে ৩৪ জনের মৃত্যুর ঘটনায় বিআইডব্লিউটিএ’র পক্ষ থেকে ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বুধবার গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং লঞ্চ থেকে যারা জীবিত উদ্ধার হয়েছে তাদের কাছ থেকে গণসাক্ষ্য গ্রহণ করে।
ঢাকা নদী বন্দর সদরঘাট টার্মিনালে বিআইডব্লিউটির সভাকক্ষে দুপুর ১২টা থেকে এ গণ-সাক্ষর কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। গণসাক্ষ্য কর্মসূচিতে সেদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল এমন বেশ কয়েকজন এসে তাদের বয়ান ও সাক্ষর দিয়ে যান। মুঠোফোনে দুর্ঘটনার সময় মনিং বার্ডে ছিল এমন কয়েকজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
গণসাক্ষর কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মো. রফিকুল ইসলাম খান (যুগ্ম সচিব, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়), ক্যাপ্টেন জসিম উদ্দিন সরকার (চিফ নটিক্যাল সার্ভেয়ার নৌ পরিবহন অধিদপ্তর), নৌ পুলিশের সিনিয়র এসপি মো. ফরিদ, ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক নুর হাসান, এবং মো. রফিকুল ইসলাম (পরিচালক, নৌ নিরাপত্তা)।
নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. রফিকুল ইসলাম খান জানান, গত পরশু দিন থেকেই আমরা তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছি, প্রথমে আমরা দুর্ঘটনাস্থল ও পরে ময়ূর লঞ্চ পরিদর্শন করেছি। ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করেছি। ময়ূর লঞ্চের ম্যানেজারের সঙ্গে প্রথম দিন কথা বলেছি এরপর থেকে তাকে আর পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশ তৎপর আছে। প্রতক্ষ্যদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণের চেষ্টা চলছে, মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করেছি প্রত্যক্ষদর্শী কোনো সাক্ষী যদি থাকে তাদের সাক্ষ্য গ্রহণের ব্যবস্থা করার জন্য। এ ছাড়া বিভিন্ন স্টেক হোল্ডার যারা আছে, লঞ্চ মালিক সমিতি, শ্রমিক সংগঠন, নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিআইডব্লিউটিএ, সিপিং অধিদপ্তরসহ সব সংস্থার সাথে আমরা কথা বলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমরা তদন্ত প্রতিবেদ দেয়ার চেষ্টা করবো।
ময়ূর লঞ্চের কাগজপত্র ঠিক আছে কি না এবং চালকের সনদ ছিলো কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রফিকুল ইসলাম খান জানান, এ বিষয়টা পর্যালোচনা করে কাগজপত্র দেখে পরে জানাতে পারবো।