কুড়িগ্রামে বন্যা: পানিতে ডুবে শিশুসহ ৪ জনের মৃত্যু

কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করলেও বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে । বন্যা দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী না পৌঁছায় তাদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। বুধবার কুড়িগ্রামে বন্যার পানিতে ডুবে আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় গত তিনদিনে ৪ শিশুসহ ৪ জন মারা গেছেন। 

এখনও ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ৬৪ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৫৩ সেন্টিমিটার ও ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ৪৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তলিয়ে গেছে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসলসহ সবজি ক্ষেত।

বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকায়, দুর্ভোগ বেড়েছে বন্যা কবলিত এ জেলার ৪০ ইউনিয়নের প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষের। নলকূপগুলো তলিয়ে থাকায় ও ঘরে শুকনো খাবার না থাকায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছেন তারা। এসব এলাকার কাঁচা-পাকা সড়ক তলিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। চারণভুমি তলিয়ে যাওয়ায় গবাদী পশু নিয়েও বিপাকে পরেছেন বানভাসী মানুষজন ।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান প্রধান জানান, জেলায় ৫ হাজার ৬শ ৫৮ হেক্টর জমির আমন বীজতলা, আউশ, শাক সবজি, পাটসহ অন্যান্য ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করা হবে।

এদিকে, সদর উপজেলার মোগলবাসা, যাত্রাপুর, উলিপুর উপজেলার গুনাইগাছ, চিলমারী উপজেলার কাচকোল ও রৌমারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে নদী ভাঙ্গন। 

বন্যা কবলিত মানুষের জন্য জেলায় ৩০২ মেট্রিক টন চাল ও শুকনো খাবারের জন্য ৩৬ লাখ ৬৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও, এখন পর্যন্ত অনেক এলাকায় তা পৌছায়নি।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, বুধবার সকালে উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের জানজায়গীর গ্রামে ১৪ মাস বয়সের মুক্তাসিন নামে এক শিশু বন্যার পানিতে ডুবে মারা যায়। এছাড়া গত দুই দিনে পানিতে ডুবে চিলমারী উপজেলার বড়াইবাড়ী গ্রামের শান্ত মিয়া (৫) ও নয়ারহাট ইউনিয়নের জামাল ব্যাপারী (৫৫) এবং নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া গ্রামের বেলাল হোসেন (৫) নামে এক শিশুর মারা গেছে।