করোনা পরীক্ষায় সরকার নির্ধারিত ফি প্রত্যাহারের দাবি ড্যাবের

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের  কিছু ব্যক্তি দুর্নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা লোপাট করে জনগণকে স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত করেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)।

বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশীদ ও মহাসচিব অধ্যাপক আব্দুস সালাম এ কথা বলেন।

ড্যাবের দপ্তর সম্পাদক ডা. মোহাম্মাদ ফখরুজ্জামান স্বাক্ষরিত যৌথ বিবৃতিতে তারা করোনা পরীক্ষায় সরকার কর্তৃক ফি নির্ধারণের সমালোচনা করে এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

তারা বলেন, বিশ্ব মহামারি করোনা ভাইরাসের করাল থাবায় বাংলাদেশ বিপর্যস্ত। শুরু থেকেই সরকারের বিভিন্ন ভুল সিদ্ধান্ত ও সমন্বয়হীনতার ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তুলনায় বাংলাদেশে টেস্টের হার খুবই নগণ্য। বাংলাদেশের মানুষের আর্থিক সক্ষমতা ও আর্থ সামাজিক ব্যবস্থার নিরিখে এটা স্পষ্ট প্রতীয়মান যে ফি নেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে মানুষের মধ্যে টেস্টের আগ্রহ কমবে। ফলে সামাজিক সংক্রমণ চরমভাবে বৃদ্ধি পাবে।

ড্যাব নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনার ভয়ংকর ছোবলে বাংলাদেশের অর্থনীতিও চরমভাবে বিপর্যস্ত, শ্রম হারিয়েছে লক্ষ লক্ষ মানুষ। এমতাবস্থায় করোনা শনাক্তকরণে ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে লোপাট করে জনগণকে বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। দারিদ্র সীমার নিচে বাস করা ও নতুন করে দরিদ্র হওয়া ব্যাপক জনগোষ্ঠী চিকিৎসা সেবা দূরে থাক শনাক্ত ব্যাতীতই মৃত্যুবরণ করবে।

তারা সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনাপূর্বক সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এহেন অবিমৃষ্যকারী ও আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জোর দাবিও জানান।