দেশের কয়েকটি এলাকায় বন্যার কিছুটা উন্নতি হলেও বেশিরভাগ অঞ্চলে পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। গতকাল বুধবার কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও জামালপুরের বিভিন্ন নদ-নদীতে বিপদসীমার অনেক ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে। নদীভাঙনে বসতভিটা হারাচ্ছে মানুষ। বন্যাকবলিত এলাকায় ঘরের খাদ্য ও জমির সবজি-ফসল নষ্ট হয়ে চরম খাদ্য সংকটে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ। তাদের বেশির ভাগই পাননি সরকারি ত্রাণ ও নগদ সহায়তা। বিভিন্ন এলাকায় ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগ দেখা দিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এদিকে গতকাল বন্যার পানিতে ডুবে কুড়িগ্রামে ১ শিশুর মৃত্যু ও জামালপুরে ২ শিশু নিখোঁজ রয়েছে।
দেশ রূপান্তরের কুড়িগ্রামের ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ব্রহ্মপুত্রের পানি এখনো জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে বিপদসীমার অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তলিয়ে গেছে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসলসহ সবজি ক্ষেত। বন্যাকবলিত হয়েছেন জেলার ৪০ ইউনিয়নের দেড় লক্ষাধিক মানুষ। বানভাসিদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী না পৌঁছায় তাদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। বন্যার্তদের জন্য জেলায় ৩০২ টন চাল ও শুকনো খাবারের জন্য ৩৬ লাখ ৬৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও, এখন পর্যন্ত অনেক এলাকায় তা পৌঁছায়নি। গতকাল এ জেলায় বন্যার পানিতে ডুবে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় গত তিন দিনে ৩ শিশুসহ ৪ জন মারা গেছেন।
আমাদের গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। সদর উপজেলা, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার ২৬টি ইউনিয়নের এক লাখ ২২ হাজার ৩২০ জন মানুষ পানিবন্দি। খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি সংকটে পড়েছে মানুষ। বন্যাকবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে ডায়রিয়াসহ পেটের বিভিন্ন অসুখ। বন্যা শুরুর ৮ দিন পেরিয়ে গেলেও ত্রাণ বরাদ্দই পাননি গাইবান্ধার কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ। আবার চাল বরাদ্দ পেলেও তা বিতরণ শুরু করেননি কয়েকজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান।
আমাদের জামালপুর প্রতিনিধি জানান, জেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে জেলার ৩ লাখেরও বেশি মানুষ। গতকাল দুপুরে জেলার ইসলামপুর উপজেলার পাথর্শী ইউনিয়নের হারিয়াবাড়ি গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে আল আমিন (৭) ও মেয়ে আলফিন (৬) বন্যার পানিতে ডুবে নিখোঁজ হয়েছে। দুর্গত এলাকায় ৬০ টন চাল ও নগদ ৫ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে, তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।