জমি দখল করে চাঁদা দাবি: খিলগাঁওয়ে গ্রেপ্তার ২ জন রিমান্ডে

খিলগাঁওয়ে জমি দখল করে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবির অভিযোগে গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তিকে একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আসামিরা হলেন, মাসুদ আহমেদ ওরফে মুকুল (৫৬) ও আ না ম জিয়াউর রহমান ওরফে পিন্টু ওরফে পিস্তল পিন্টু। 

বুধবার রাতে খিলগাঁওয়ের নন্দীপাড়া থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, খিলগাঁও থানার ওসি মো. মশিউর রহমানের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে মুকুল ও পিস্তল পিন্টুর নেতৃত্বে সন্ত্রাসী গ্রুপ এলাকায় বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এ বিষয়ে মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার বরাবরে লিখিত অভিযোগ করা হয়।

তারা জানান, খিলগাঁও থানায় বুধবার রামপুরার বাসিন্দা হুমায়ূন কবির বাদি হয়ে মুকুল ও পিস্তল পিন্টুসহ বেশ কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন। এ মামলার তদন্তভার থানার এসআই আরসেল তালুকদারকে দেওয়া হয়।

তিনি জানান, মুকুল ও পিস্তল পিন্টুকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত তাদের একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে খিলগাঁও থানার ওসি মশিউর রহমান বলেন, আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। এ বিষয়ে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হোক।

মামলার এজাহারে বলা হয়, খিলগাঁও থানার নন্দীপাড়া মৌজার ৩২ শতাংশ জমি ১৯৭০ সালের দলিল (নং ৭২৭৬) অনুযায়ী মূল মালিক সবদর আলী। সবদর আলীর কাছ থেকে জমিটি কেনার পর থেকে প্রিন্সিপাল ডা. মো. হুমায়ূন কবির ওরফে বুলবুল, জাহিদ হোসেন মজুমদার, হুমায়ূন কবির, সেকান্দর আলী, তাসনিম আরা কবির, আবুল বাশার মিয়া ও ডা. সৈয়দ ওমর ফারুক ভোগদখল করে আসছিলেন। এ বছর ৩০ মে বিকাল ৩টার দিকে এ জমিতে মাসুদ আহমেদ মুকুল, আ না ম জিয়াউর রহমান পিন্টু, প্রসেনজিৎ কুমার মলি­ক, এসএম তারেক আল শফিক, বিাল্লাল হোসেন, মজিবর রহমান, মাহাবুব মিয়া, হারুন অর রশিদ, আলামিন, নাসির, আলী হোসেন, রায়হান, জুয়েল, শাহ আলম, জীবন, শামীম রহমানসহ অজ্ঞাত আরো কয়েকজন জাহিদ হোসেনের গেটের তালা ভেঙে ওই জমির ওপর জোর করে সাইনবোর্ড লাগায়। এরপর জমি নিজেদের দাবি করে তারা ১০ লাখ টাকা দাবি করে। ৩০ জুন প্রিন্সিপাল ডা. মো. হুমায়ূন কবির ওরফে বুলবুল জমি দেখতে গেলে মুকুল, পিস্তল পিন্টু ও তাদের লোকজন তার ওপর মারমুখি হয়ে ওঠে। এ সময় তার গাড়িচালককে মারধর করে ও চালকের পকেট থেকে পাঁচ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। জমিতে আর কেউ আসলে তাকে হত্যারও হুমকি দেয় তারা। এ ঘটনায় খিলগাঁও থানায় মামলা করা হয়।
ভুক্তভোগীরা জানান, মুকুল ও পিস্তল পিন্টুর সন্ত্রাসী বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে খিলগাঁও নন্দীপাড়া এলাকায় ভূমি দখল বাণিজ্য করে আসছে। মুকুল প্রথমে ডা. জাহিদের জমি, এরপর একেএকে সিরাজউদ্দৌলা ও তোজাম্মেলদের জমি দখল করে এইচটিএস রি-ফুয়েলিং (প্রা.) লি. পেট্টল পাম্প গড়ে তোলে। মসজিদ ও কবরস্থানে যাতায়াতের রাস্তা দখল করে নিয়েছে মুকুল। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। 

এর আগে ২৪ জুন ভুক্তভোগীদের পক্ষে হুমায়ূন কবির মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার বরাবরে আবেদন করেন। 

এতে উল্লে­খ করা হয়, জমি দখল করে এর একাংশে সন্ত্রাসীরা মাদকের আসর বসায়। এসব ঘটনায় খিলগাঁও থানায় তারা দুটি অভিযোগ করেন। থানার এসআই ইকরামুল ও এসআই সেলিম খান তদন্ত করে সত্যতা পান। এরপরও অভিযোগ গ্রহণ করেননি খিলগাঁও থানার ওসি  মশিউর রহমান। ১৫ দিন চেষ্টার পর জিডি নেয়া হয়। ওসির সম্মতিক্রমে ১৬ জুন এসআই সেলিম খান সন্ত্রাসীদের থানায় ডেকে দলিল দেখতে চান। কিন্তু তারা জানান, তাদের বৈধ কাগজপত্র নেই।