কিংসের ১৩ দিনে ৫ ম্যাচ

এএফসি কাপের গ্রুপপর্বের সূচি প্রকাশ করেছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনস (এএফসি)। যেখানে দেখা যাচ্ছে একটি কেন্দ্রীয় (সেন্ট্রালাইজড) ভেন্যুতে বসুন্ধরা কিংসকে ১৩ দিনের মধ্যে খেলতে হবে ৫টি ম্যাচ। করোনার কারণে স্থগিত হয়ে যাওয়া এএফসি কাপের গ্রুপপর্বের ম্যাচগুলো আয়োজনের ব্যাপারে কিছুদিন আগে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর সঙ্গে অনলাইনে সভা করে এএফসি। সেখানে তারা গ্রুপপর্বের ম্যাচগুলো হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে না করে একটি কেন্দ্রীয় ভেন্যুতে আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানায়। সেই সভায়ই ‘ই’ গ্রুপের চার দল বসুন্ধরা, চেন্নাই সিটি এফসি (ভারত), মাজিয়া ও টিসি স্পোর্টসকে (মালদ্বীপ) কেন্দ্রীয় ভেন্যু হওয়ার প্রস্তাব দেয় এএফসি। সে সভায়ই করোনার এই ভয়াল পরিস্থিতিতে নিজ নিজ দেশে ম্যাচ আয়োজন না করার কথা জানায় দলগুলো। তারপরও এএফসি তাদের আয়োজক হওয়ার জন্য আবেদনের সময় বেঁধে দিয়েছে ১৬ জুলাই পর্যন্ত। বসুন্ধরা কাল আবারও জানিয়েছে আয়োজক না হওয়ার কথা।

সূচি অনুযায়ী ২৩ অক্টোবর থেকে শুরু হবে মাঠের খেলা। পাঁচটি ম্যাচ ডেতে (২৩ অক্টোবর, ২৬ অক্টোবর, ২৯ অক্টোবর, ১ নভেম্বর ও ৪ নভেম্বর) হবে ‘ই’ গ্রুপের ১০টি ম্যাচ। করোনার বিস্তারের আগে গ্রুপের প্রথম ম্যাচে টিসি স্পোর্টসকে ৫-১ গোলে হারানো বসুন্ধরা কিংস ২৩ অক্টোবর মুখোমুখি হবে মালদ্বীপের আরেক দল মাজিয়ার। ২৬ অক্টোবর তাদের প্রতিপক্ষ চেন্নাই সিটি এফসি। দুদিন পর ফের চেন্নাইয়ের বিপক্ষে খেলতে হবে কিংসকে। আর ১ ও ৪ নভেম্বর তাদের প্রতিপক্ষ যথাক্রমে টিসি স্পোর্টস ও মাজিয়া। 

আসরের নতুন ফরম্যাটে কেন্দ্রীয় ভেন্যু হতে হলে অনেকগুলো শর্ত পূরণ করতে হবে। চারটি দলের সব খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তাদের কভিড-১৯ পরীক্ষা করাতে হবে। সে দেশে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে কোনো বিধিনিষেধ থাকা চলবে না। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী সব আয়োজন করতে হবে। ৫টি ম্যাচ ডেতে ১০টি ম্যাচ একই শহরে আয়োজন করতে হবে। এতসব শর্ত মেনে বাংলাদেশে এ মুহূর্তে কেন্দ্রীয় ভেন্যু করার কোনো সুযোগই দেখছেন না বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি ইমরুল হাসান, ‘সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশে কেন্দ্রীয় ভেন্যু করার কোনো সম্ভাবনাই নেই। যেসব শর্ত এএফসি দিয়েছে সেগুলো পূরণ করা সম্ভব, এটা বলার মতো পরিস্থিতি এখন আমাদের দেশে নেই। তাছাড়া এক ভেন্যুতে দিনের দুটি ম্যাচ আয়োজন নিশ্চয় এএফসি মানবে না। সেক্ষেত্রে আমাদের কোনো শহরেই আন্তর্জাতিক মানের দুটি মাঠ নেই। চারটি দলকে নিরাপত্তাসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার নিশ্চয়তাও এ মুহূর্তে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে ভেন্যু হওয়ার এই প্রস্তাব আমরা লুফে নিতাম।’ ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে যদি বসুন্ধরার মতো অন্য দলগুলোও আগ্রহ না দেখায়, তবে কোনো একটি নিরপেক্ষ ভেন্যুতে এই ম্যাচগুলো আয়োজন করতে হবে এএফসিকে। একটি সূত্র জানিয়েছে, সবকিছু ঠিক থাকলে কাতার হতে পারে ‘ই’ গ্রুপের নিরপেক্ষ ভেন্যু।