করোনার ‘এয়ারবর্ন’ তথ্য নিয়ে চিন্তা

করোনা বাতাসে ছড়ায় কি না, এ বিষয়ে গুগল করলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যে পরামর্শ দেখানো হচ্ছে, তাতে স্পষ্ট লেখা আছে ‘চীনে কভিড-১৯ এর বিশ্লেষণে এয়াবর্নের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।’ ওদিকে ২৩৯ জন বিজ্ঞানী সংস্থাটির কাছে খোলা চিঠিতে বলেছেন, এই নির্দেশনা পরিবর্তন না করলে বিপদ!

এয়ারবর্ন কী: শব্দটির অর্থ বায়ুবাহিত। অতিক্ষুদ্র জলকণা যখন সুস্থ মানুষের নিশ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করে, তখন তাতে ভাইরাস থাকলে ওই ব্যক্তি আক্রান্ত হতে পারেন। অর্থাৎ নভেল করোনাভাইরাস যদি সত্যি সত্যি এয়ারবর্ন বা বায়ুবাহিত হয়, তাহলে ঘরের ভেতরেও মাস্ক ছাড়া আপনি নিরাপদ থাকতে পারবেন না!

‘এ বিষয়ে আমরা ১০০ শতাংশ নিশ্চিত,’ মন্তব্য করে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির গবেষক লিডিয়া মোরাওস্কা গার্ডিয়ানকে বলেছেন, ‘আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে সতর্ক করতে খোলা চিঠি লিখছি। ৩২ দেশের ২৩৯ জন গবেষক চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। এটি সামনের সপ্তাহে জার্নালে প্রকাশ করা হবে।’

এই ২৩৯ বিজ্ঞানীর সঙ্গে একমত বাংলাদেশের জাতীয় নিউরো সায়েন্স হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. উজ্জ্বল কুমার মল্লিক। তিনি অস্ট্রেলিয়ান নিউজিল্যান্ড ইনটেনসিভ কেয়ার সোসাইটির (এএনজেডআইসিএস) আইডেনটিফিকেশন অ্যান্ড ট্রিটমেন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের একমাত্র বাংলাদেশি সদস্য, যারা কভিড-১৯ প্রতিরোধের বিশেষ একটি গাইডলাইন তৈরি করেছেন।

উজ্জ্বল কুমার মল্লিক দেশ রূপান্তরকে সোমবার ফোনে বলেন, ‘করোনাভাইরাস বাতাসের মাধ্যমে জলকণা হিসেবে ছড়িয়ে থাকতে পারে। এয়ারবর্ন ভাইরাস ক্ষুদ্র-ক্ষুদ্র জলকণার মাধ্যমে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় প্রবাহিত হয়।’

‘অনেকে বলছেন যে তারা বাইরে বের হচ্ছেন না; তবু বাসায় থেকে সংক্রমিত হচ্ছেন। অসুস্থ মানুষের ড্রপলেটের জলকণাগুলো যখন ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্র হয়, তখন বাতাসে ভেসে বেড়ায়। এজন্য এখন আমাদের ঘরের ভেতরেও সতর্ক থাকা উচিত।’

উজ্জ্বল কুমার মল্লিক মনে করেন, এ বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত হতে দ্রুত আরও বিশদ গবেষণা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা উচিত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যা বলছে: সংস্থাটির ওয়েবসাইটে কভিড-১৯ ভাইরাসের সংক্রমণের ধরণ বিভাগে এভাবে লেখা আছে, বর্তমান প্রমাণ অনুযায়ী কভিড-১৯ ভাইরাস প্রাথমিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাসের ড্রপলেট এবং কন্টাক্ট রুটের মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায়। চীনের ৭৫ হাজার ৪৬৫টি ঘটনা বিশ্লেষণ করে বায়ুবাহিত বিষয়ক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

মহামারীর ক্ষেত্রে এই এয়ারবর্ন ট্রান্সমিশন খুব গুরুত্বপূর্ণ। জনাকীর্ণ পরিবেশের বায়ুচলাচল ব্যবস্থা খারাপ হলে দ্রুততম সময়ে অনেক মানুষ সংক্রমিত হতে পারেন। তাই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখলেও ঘরের ভেতরে মাস্ক প্রয়োজন হতে পারে। তখন স্কুল, নার্সিং হোম, বাসাবাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বাতাস চলাচলের নতুন শক্তিশালী ফিল্টারের প্রয়োজন পড়তে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিজ্ঞানী বেনেডেটা অ্যালেগ্রানজি নিউইয়র্ক টাইমসের সঙ্গে আলাপকালে অবশ্য অভয় দিয়েছেন, ‘করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে বায়ুবাহিত বিষয়টি সম্ভাব্য হিসেবে আমলে নিতে কয়েক মাস ধরে আমাদের বলা হচ্ছে। কিন্তু এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো নজির বা প্রমাণ নেই। তাই বিতর্ক হচ্ছে।’