নন্দিত কণ্ঠশিল্পী অ্যান্ড্রু কিশোর আর নেই। সোমবার (৬ জুলাই) তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। অ্যান্ড্রু কিশোরের মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে পড়েছে বিনোদন অঙ্গন। দেশ রূপান্তরের কাছে চোখের জলে অ্যান্ড্রু কিশোরকে স্মরণ করলেন শিল্পীরা। অ্যান্ড্রু কিশোরকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করলেন জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী এস আই টুটুল।
টুটুল বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে অনেক শো করেছি। আমেরিকায় দীর্ঘদিন আমরা একসঙ্গে থেকেছি, এক রুমে। একসঙ্গে গলার রেওয়াজ করতাম। সেখানে মনির ভাই রেশমা আপার বাসায় ছিলাম আমরা। ওখানে আমরা মাসের পর মাস থেকেছি। এত কোয়ালিটি টাইম কাটিয়েছি যে চিন্তা করা যায় না। দাদা যেন সুখে থাকে। আমার ছেলে আরশ দাদাকে দাদা মিয়া বলে ডাকেন। উনি আমাদের প্রচণ্ড ভালোবাসতেন। আজকেও হানিফ সংকেতের সঙ্গে কথা বলেছি দাদাকে নিয়ে। সংকেত দাকে বললাম, চলেন দেখতে যাই। তখন তিনি বললেন এখন গেলে তো দেখা করতে পারবি না। কথা বলতে পারবি না। কবির বকুল ভাইয়ের সঙ্গেও কথা হয়েছে যে চলুন ওনাকে গিয়ে সারপ্রাইজ দিয়ে আসি। কিন্তু যাওয়া হলো না। বিকেল গড়াতেই উনি নিজেই সারপ্রাইজ দিয়ে চলে গেলেন।’
অ্যান্ড্রু কিশোর বাংলাদেশে ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ নামে পরিচিত। কয়েক হাজার সিনেমার গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে— জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প, হায়রে মানুষ রঙের ফানুস, ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে, আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি, আমার বুকের মধ্যে খানে, আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান, ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা, সবাই তো ভালোবাসা চায় প্রভৃতি।
এ শিল্পী ১৯৫৫ সালের ৪ নভেম্বর রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগে পড়াশোনা করেছেন। আব্দুল আজিজ বাচ্চুর অধীনে প্রাথমিকভাবে সংগীত পাঠ গ্রহণ শুরু করেন অ্যান্ড্রু কিশোর। মুক্তিযুদ্ধের পর নজরুল, রবীন্দ্রনাথ, আধুনিক, লোক ও দেশাত্মবোধক গানে রেডিওতে তালিকাভুক্ত শিল্পী হন।
অ্যান্ড্রু কিশোরের চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৭ সালে আলম খান সুরারোপিত ‘মেইল ট্রেন’ সিনেমার ‘অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তার কেউ’ গানটি। এরপর ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’তে কণ্ঠ দেন। এর পর বেশ কিছু গান তাকে ভীষণ পরিচিত করে তোলে। তবে তুমুল জনপ্রিয়তা পান বেলাল আহমেদের ‘নয়নের মনি’ সিনেমার গান দিয়ে। ওই সিনেমার পুরো অ্যালবামই হিট, পরে কলকাতায় রিমেকও হয়।
অ্যান্ড্রু কিশোর বড় ভালো লোক ছিল, সারেন্ডার, ক্ষতিপূরণ, পদ্মা মেঘনা যমুনা, কবুল, আজ গায়েহলুদ, সাজঘর, কি যাদু করিলা সিনেমায় কণ্ঠ দিয়ে মোট আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। এ ছাড়া বাচসাস, মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারসহ অনেক স্বীকৃতি পেয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনে সংজ্ঞা ও সপ্তক নামের দুই সন্তানের জনক অ্যান্ড্রু কিশোর।