যশোরে পুলিশের বিরুদ্ধে কলেজছাত্র ইমরান হোসেনকে নির্যাতনের অভিযোগ বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
বিচারপতি জে বি এম হাসানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেয়।
আদেশে বলা হয়, যশোর জেলা ও দায়রা আদালতের যুগ্ম জেলা জজ পদমর্যাদার নিচে নন এমন একজন বিচারিক কর্মকর্তার মাধ্যমে এ ঘটনার তদন্ত করে ৬০ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।
এদিকে হাইকোর্টের আদেশের প্রেক্ষিতে ওই শিক্ষার্থীর ডোপ টেস্টের ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। যশোর জেলার সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীনের পাঠানো প্রতিবেদন সোমবার বেঞ্চে উপস্থাপন করা হয়। ২৮ জুন এক আদেশে ইমরানের ডোপ টেস্টের প্রতিবেদন ৫ জুলাইয়ের মধ্যে চায় হাইকোর্ট।
এ ঘটনায় রিট আবেদনকারী আইনজীবী হুমায়ুন কবির পল্লব শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস।
ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যশোরের সিভিল সার্জন যে প্রতিবেদন দিয়েছেন তাতে দেখা যায় ওই কলেজছাত্র ডোপ টেস্টের পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। অর্থাৎ তার শরীরে মাদকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।’
গত ২৩ জুন হাইকোর্টের আদেশের প্রেক্ষিতে গত ২৮ জুন যশোরের সিভিল সার্জনের পাঠানো স্বাস্থ্যগত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইমরানের এখন কোনো সমস্যা নেই। তার কিডনি এখন স্বাভাবিক।
এ ছাড়া যশোর পুলিশের পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়, ইমরানকে নির্যাতনের বিষয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের সত্যতা পাওয়া যায়নি। আর পুলিশের যে গাফিলতি রয়েছে সে বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
যশোরে কয়েকজন পুলিশের বিরুদ্ধে কলেজছাত্র ইমরানকে নির্যাতন, ছয় হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া, তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর তার কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ সংক্রান্ত প্রতিবেদন কিছু দিন আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
এরপর যশোর পুলিশের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করার পর গত ১৫ জুন কমিটি পুলিশ সুপারের কাছে জমাকৃত প্রতিবেদনে জানায়, ইমরানকে নির্যাতনের অভিযোগের সত্যতা পায়নি।
এদিকে ওই দিনই প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে সাজিয়ালি পুলিশ ক্যাম্পের চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়।এ ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত, ইমরানকে ক্ষতিপূরণ এবং চিকিৎসার ব্যয়ভার গ্রহণ গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে ১৮ জুন এ রিট আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হুমায়ুন কবির পল্লব ও মোহাম্মদ কাউছার।