রাজশাহীর দুরন্ত ছেলেটির দরদি কণ্ঠ শুনে থেমে যেত পূজা মণ্ডপের কোলাহল, ভিড় জমত রাস্তাতেও। সেই ছেলেটি একদিন জয় করলেন পুরো বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়। সেই ছেলেটির নাম অ্যান্ড্রু কিশোর, যিনি পরবর্তীতে সংগীত পরিচালক আলম খানের হাত ধরে হয়ে উঠলেন প্ল্যেব্যাক সম্রাট। ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’ বলে যিনি গানে গানে মানুষের জীবনে আনন্দ ছড়িয়ে দিতেন, তিনি মরণব্যাধি ক্যানসারের সঙ্গে ভেসে গেলেন চোখের জলে। ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে, রইবো না আর বেশি দিন তোদের মাঝারে’ নিজের গাওয়া গানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সোমবার ওপারে চলে গেলেন এই প্লেব্যাক সম্রাট। বরেণ্য এই সংগীতশিল্পী এখন রামেক হিমঘরে শুয়ে অপেক্ষা করছেন প্রিয় দুই সন্তানের জন্য। তারা এলেই ধরাধাম ছেড়ে পাড়ি দেবেন অপার দয়ালের কাছে।
জানা যায়, এন্ড্রু কিশোরের শেষকৃত্যের জন্য আগামী ১৫ জুলাই সম্ভাব্য দিন ঠিক করা হয়েছে। শিল্পীর বোন জামাই ডা. প্যাট্টিক বিপুল বিশ্বাস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিদেশে চিকিৎসা শেষ করে গত ১১ জুন দেশে ফেরার পর থেকে জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী এন্ড্রু কিশোর তার বোনের বাড়ি রাজশাহীর মহিষবাথানেই ছিলেন। এই বাড়িতেই সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে নিশ্বাস ত্যাগ করেন প্লে-ব্যাক সম্রাট এন্ড্রু কিশোর। পরে শিল্পীর নিথর দেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়। সেখানেই রয়েছেন দেশের জনপ্রিয় এই শিল্পীর মরদেহ।
উপমহাদেশের প্রখ্যাত এই শিল্পীর বোন জামাই ডা. প্যাট্টিক বিপুল বিশ্বাস বলেন, ‘৮ জুলাই রাতে এন্ড্রু কিশোরের ছেলে এন্ড্রু জুনিয়র সপ্তক অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরবেন। তবে শিল্পীর মেয়ে সংজ্ঞার ফিরতে দেরি হচ্ছে। সে ফিরবে আগামী ১৩ জুলাই রাতে। ১৪ জুলাই সকালে রাজশাহীতে পৌঁছাবে। এরপর ১৫ জুলাই কিশোরের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে।
যেভাবে হবে শেষকৃত্য:
ডা. প্যাট্টিক বিপুল বিশ্বাস বলেন, ১৫ জুলাই সকাল ৯টার দিকে মরদেহ সিটি চার্চে নিয়ে ধর্মীয় আচার শুরু করা হবে। সাড়ে ৯টায় ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। চলবে বেলা ১১টা পর্যন্ত। এন্ড্রু কিশোরের ইচ্ছা অনুযায়ী বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার মরদেহ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে নেয়া হবে। সেখানে তার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ভক্তদের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ দেয়া হবে।
এরপর মরদেহ রাজশাহী কলেজে রাখা হবে। সেখানেও ভক্ত-অনুরাগীদের শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ দেয়া হবে। শ্রদ্ধা জানানো শেষে বেলা সাড়ে ৩টায় এন্ড্রু কিশোরকে সমাধিস্থলে নেয়া হবে।