বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবিতে নারী শিশুসহ ৩৪ জনের প্রাণহানির ঘটনায় নয়টি কারণ চিহ্নিত করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে ২০ দফা সুপারিশ করেছে নৌ মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি।
নৌ-পরিহন মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এ কথা জানান।
প্রতিবেদনে ঢাকা সদরঘাটের কাছে নৌযানের বার্থিং বন্ধ করা, খেয়াঘাট সরিয়ে নেওয়া, ভয়েজ ডিক্লারেশন বাধ্যতামূলক করা, নৌযানের গতি সীমা নির্ধারণ, পুরনো ধাঁচের লঞ্চ তুলে দেওয়া, লঞ্চে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত টিকেট বিক্রি বন্ধ করা এবং শাস্তি বাড়িয়ে নৌ আইন যুগোপযোগী করার সুপারিশ করা হয়।
ঘটনার জন্য কে দায়ী তা উল্লেখ না করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এক জন্য কে কে দায়ী তা এখন প্রকাশ করছি না। তবে তদন্ত কমিটি ২০টি সুপারিশ দিয়েছে।’
তদন্ত কমিটি এ দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিত করে নয়টি মতামত দিয়েছে জানিয়ে সচিব মোহাম্মদ মেসবাহ উদ্দিন বলেন, ‘ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় মর্নিং বার্ড ডুবে গেছে এটা নিশ্চিত। তবে যেহেতু এ ঘটনায় মামলা হয়েছে, তাই দায়ী কে তা তদ্ন্ত করে বের করা হবে।’
বাসস এক প্রতিবেদনে জানায়, সোমবার রাতে তদন্ত প্রতিবেদন নৌপরিহন মন্ত্রণালয়ে জমা দেয় তদন্ত কমিটি। সেখানে ‘এমএল মর্নিং বার্ড’ লঞ্চটি ডুবে যাওয়ার ঘটনায় ‘এমভি ময়ূর-২’ লঞ্চটিকে দায়ী করা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
এছাড়া পুরো ঘটনায় ময়ূর-২ এর মাস্টার ও চালকসহ সকল স্টাফদের অবহেলা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
মর্মান্তিক ওই লঞ্চডুবির ঘটনায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (উন্নয়ন) রফিকুল ইসলাম খানকে আহ্বায়ক এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিএ) পরিচালক (নৌ নিরাপত্তা) রফিকুল ইসলামকে সদস্য সচিব করে তদন্ত কমিটি করা হয়। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৯ জুন রাজধানীর সদরঘাটের কাছে শ্যামবাজার এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীতে ‘এমভি ময়ূর-২’ এর ধাক্কায় যাত্রীবাহী লঞ্চ ‘এমএল মর্নিং বার্ড’ ডুবে যায়। সকালে মুন্সীগঞ্জের কাঠপট্টি থেকে ঢাকার সদরঘাটের দিকে আসা মর্নিং বার্ড লঞ্চটি শতাধিক যাত্রী নিয়ে ডুবে যায়। এই ঘটনায় শেষ পর্যন্ত ৩৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
লঞ্চডুবির ঘটনায় ওই রাতেই নৌপুলিশ সদরঘাট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ শামসুল আলম বাদি হয়ে অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগ এনে সাতজনের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন।
মামলার আসামিরা হলেন- এমভি ময়ূর-২ এর মালিক মোসাদ্দেক হানিফ সোয়াদ, লঞ্চের মাস্টার আবুল বাশার মোল্লা ও জাকির হোসেন, চালক শিপন হাওলাদার ও শাকিল হোসেন এবং সুকানি নাসির মৃধা ও মো. হৃদয়।
অভিযুক্ত লঞ্চের মালিক, মাস্টার ও চালক পলাতক রয়েছে। এখনো কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি।