১১৭ দিন পর ক্রিকেট ফিরছে মাঠে

গত ১৩ মার্চ অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ হয়েছিল। এরপর করোনা ভাইরাসের কারণে আর সব খেলার মতো ক্রিকেটও চলে অনাকাক্সিক্ষত বিরতিতে। ১১৭ দিন পর আজ আবার মাঠে ফিরছে ক্রিকেট। সাউদাম্পটনের অ্যাজেস বোল-এ ইংল্যান্ড-উইন্ডিজ টেস্টের মধ্য দিয়ে ব্যাট-বলের লড়াই আবার শুরু হচ্ছে। নতুন এই শুরুতে ক্রিকেটে নতুন নিয়ম যোগ হচ্ছে। আর দর্শকশূন্য গ্যালারিতে হচ্ছে খেলা। ভার্চুয়াল সাউন্ড সিস্টেমে দর্শকদের উল্লাসই অনির্দিষ্টকাল ক্রিকেটারদের উজ্জীবিত হওয়ার ভরসা।

তিন টেস্ট সিরিজের প্রথমটি মাইলফলকের ম্যাচও হতে যাচ্ছে। ক্রিকেট ইতিহাসে এই প্রথম এক টেস্টে এই ফরম্যাটে র‌্যাংকিংয়ের সেরা দুই অলরাউন্ডার অধিনায়ক হয়ে নামছেন। উইন্ডিজ অধিনায়ক জেসন হোল্ডার আছেন র‌্যাংকিং শীর্ষে আর ইংল্যান্ডের ৩৩তম টেস্ট অধিনায়ক বেন স্টোকস দু’নম্বরে। দুই অলরাউন্ডার সেনাপতির লড়াইয়ের সিরিজে দু’দলের জন্যই চিন্তার কারণ ব্যাটিং। বোলিং বিভাগ নিয়ে কারোরই ভাবনা থাকার কথা না। কারণ দু’দলই টেস্টের জন্য সেরা পেস অ্যাটাক সাজিয়েছে। তাই দুদলেরই চিন্তার কারণ বিপরীত বিভাগ- ব্যাটিং। এমন সমীকরণের সিরিজে উইন্ডিজের আশা ১৯৮৮’র পর ইংল্যান্ডের মাটিতে প্রথম সিরিজ জেতা। আর ইংল্যান্ডের ওই বছরের পর নিজের মাটিতে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা। যদিও ২০১৮-১৯ সালে শেষবার মুখোমুখিতে উইন্ডিজের মাটিতে হেরেছিল ইংল্যান্ড।

স্পিনার এই সিরিজে নাও দেখা যেতে পারে। উইন্ডিজ পেস কোয়ার্টেট জেসন হোল্ডার, শ্যানন গ্যাবরিয়েল, কেমার রোচ, আলজেরি জোসেপদের নিয়ে গড়া পেস অ্যাটাক গত সিরিজে ইংল্যান্ডের অনেক চিন্তার কারণ হয়েছিল। এবারও তেমন সুবিধা পেতে চান রোচ। জো রুটের না থাকাটা বাড়তি সুবিধা বলে জানিয়েছেন, ‘রুট ইংল্যান্ডের ব্যাটিং ইউনিটের ভারসাম্য ধরে রাখে। তবে তার থাকাটা আরেক দিক দিয়ে অসুবিধাও। ওদের দলে কিছু নতুন ব্যাটসম্যান এসেছে যাদের আমরা চিনি না। তাই ওদের দুর্বলতা বের করা কঠিন হবে। তবে আমরা নিজেদের বোলিং শক্তি নিয়েই এগিয়ে যাওয়ার পক্ষে।’

ব্যাটিং নিয়ে ভাবতেই হচ্ছে উইন্ডিজকে। এক শেই হোপ ছাড়া ইংল্যান্ডের মাটিতে ধারাবাহিক রান পাওয়ার কেউ নেই তাদের দলে। নিজেদের মধ্যে প্রস্তুতি ম্যাচেই দলের চার টপঅর্ডার ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট, সামারাহ ব্রুকস, জন ক্যাম্পবেল, হোপ, রোস্টন চেজ মিলে করেছেন মাত্র ২৯ রান। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য রডি এস্টউইকের মন্ত্র পিচে সময় কাটানো, ‘ছেলেরা অনেকদিন পর পিচে নেমেছে। হতে পারে সময় লাগছে ওদের। আমি আশা করব টেস্টে ওরা ক্রিজে বেশি সময় কাটাবে। তাহলে কঠিন নড়বড়ে সময় পার করা সহজ হবে।’

রুট না থাকায় নড়বড়ে টপঅর্ডার নিয়ে নামতে হবে স্বাগতিকদের। রোরি বার্নস, ডম সিবলি ওপেনিংয়ে থাকবেন। তিন ও চারে জো ডেনলি ও জ্যাক ক্রলিকে দেখা যেতে পারে। দুশ্চিন্তার বিষয় তাদের কারোরই নিয়মিত বড় ইনিংস খেলার ধারাবাহিকতা নেই। তাই আবারও দলের ব্যাটিং লাইনের চাপ এসে পড়বে স্টোকসের ওপর। এছাড়া নিচের দিকে জস বাটলারকেই শেষ পর্যন্ত দলের হাল ধরতে হতে পারে। তবে বোলিং নিয়ে উইন্ডিজের মতোই ভাবনাহীন স্বাগতিকরা। দুই অভিজ্ঞ জেমস অ্যান্ডারসন আর স্টুয়ার্ট ব্রড আছেন। সঙ্গে অসম্ভব গতি তোলা জোফরা আর্চার ও মার্ক উড। পঞ্চম অপশন অধিনায়ক স্টোকস নিজেই। শোনা যাচ্ছে ব্রড নাও সুযোগ পেতে পারেন। না থাকলে গত ৮ বছরে এই প্রথম দেশের মাটিতে তাকে দেখা যাবে না।

নেতৃত্ব নিয়ে একটু নার্ভাস স্টোকস। জানিয়েছেন, রুট তাকে এসএমএস পাঠিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন, ‘তুমি তোমার মতো নেতৃত্ব দাও। আমি ওকে জানাই, তোমার মতোই থাকব। আসলে রুট সব সময়ই সবার কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে কাজ করে। আমিও তাই করব। আমাদের দলে বেশ অভিজ্ঞ ক্রিকেটার আছে। তাদের পরামর্শ না নেওয়া আমার বোকামি হবে। তাছাড়া রুট আমাকে বলেছে যে কোনো সময় ওর সঙ্গেও আমি মুঠোফোনে আলাপ করতে পারি। আশা করি আমার জন্য ভালো কিছুই হবে।’