করোনা টেস্ট না করে সার্টিফিকেট প্রদানসহ বিভিন্ন অভিযোগে রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় গতকাল রাতে মামলা করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র্যাব।
এতে রিজেন্টের মালিক শাহেদ করিমসহ নয়জনকে পলাতক হিসেবে এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আটক আটজনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
আসামিরা হলেন- রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ পারভেজ, রিজেন্ট হাসপাতালের কর্মী তরিকুল ইসলাম, আবদুর রশিদ খান জুয়েল, মো. শিমুল পারভেজ, দীপায়ন বসু, আইটি কর্মকর্তা মাহবুব, সৈকত, পলাশ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা আহসান হাবীব (১), হেলথ টেকনিশিয়ান আহসান হাবীব (২), হেলথ টেকনোলজিস্ট হাতিম আলী, অভ্যর্থনাকারী কামরুল ইসলাম, রিজেন্ট গ্রুপের প্রকল্প প্রশাসক মো. রাকিবুল ইসলাম, রিজেন্ট গ্রুপের মানবসম্পদ কর্মকর্তা অমিত বণিক, রিজেন্ট গ্রুপের গাড়িচালক আবদুস সালাম ও নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রশিদ খান।
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে হাসপাতালের শাখা দুটির (উত্তরা ও মিরপুর) কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশের কথা বলা হয়। মঙ্গলবার বিকেলে উত্তরায় রিজেন্টের প্রধান কার্যালয় সিলগালা করে দেয় র্যাব।
সোমবার উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালে র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় রিজেন্ট হাসপাতালের পরিচালক ও ব্যবস্থাপকসহ আট জন কর্মীকে আটক করে র্যাব।
র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, হাসপাতালটি এ পর্যন্ত ১০ হাজারেরও বেশি করোনা পরীক্ষার সার্টিফিকেট প্রদান করেছে। তারা আইইডিসিআর, আইটিএইচ ও নিপসম থেকে ৪ হাজার ২০০ রোগীর বিনা মূল্যে নমুনা পরীক্ষা করিয়ে এনেছে। পাশাপাশি নমুনা পরীক্ষা না করেই আরও তিন গুণ লোকের ভুয়া করোনা রিপোর্ট তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, প্রতি পরীক্ষার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৩ হাজার ৫০০ করে টাকা নিয়েছে। এর মানে হলো তারা এ পর্যন্ত প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে। যদিও হাসপাতালটির সঙ্গে সরকারের চুক্তি ছিল ভর্তি রোগীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার। সরকার এই ব্যয় বহন করবে।
সরোয়ার আলম বলেন, ‘রিজেন্ট হাসপাতাল যে পরিমাণ পরীক্ষা বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে করিয়েছে, তার প্রায় তিন গুণ বেশি নমুনা সংগ্রহ করলেও পরীক্ষা না করেই ইচ্ছামতো প্রতিবেদন দিয়েছে। অবস্থা পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ৪ থেকে ৫ হাজার মানুষকে ভুয়া প্রতিবেদন দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি, যা বড় ধরনের ও ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।’
তিনি আরও বলেন, ‘বেশকিছু দিন ধরে র্যাবের গোয়েন্দা ইউনিট বিষয়টি নজরে রাখছিল। তা বুঝতে পেরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের বেশকিছু স্টাফদের কাছ থেকে দুই মাস আগের পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে রাখে। আত্মরক্ষার জন্য এই কৌশল নেয় তারা। স্টাফদের অনেকেই এই অভিযোগ করেছেন।’