বিয়ের ছবি শেয়ার করে অ্যান্ড্রু কিশোরের প্রতি শ্রদ্ধা

প্রয়াত কণ্ঠশিল্পী অ্যান্ড্রু কিশোরকে শ্রদ্ধা জানালেন আমেরিকা প্রবাসী অভিনেতা টনি ডায়েস। শোক বাণীর সঙ্গে জুড়ে দিলেন ১৯ বছর আগের একটি ছবি। সে দিন টনি ও প্রিয়া ডায়েসের বিয়েতে হাজির হয়েছিলেন ‘জীবনের গল্প’ গায়ক।

ফেইসবুক পোস্টে টনি লেখেন, “ছোটবেলায় অ্যান্ড্রু কিশোরের গান শুনে খুব ইচ্ছে হতো গায়ক হওয়ার। বাড়িতে টুইন ওয়ান ক্যাসেট প্লেয়ারে সারাদিন বাজাতাম। এত সুর শিল্পীর গলায়!”

আরও লেখেন, “ছবিটা ২০০১ সাল, ১৪ই ফেব্রুয়ারি, আমাদের বিয়েতে। বিদায় হে শিল্পী… তুমি থাকবে তোমার গানে… রবে তুমি আমাদের হৃদয়ে… শ্রদ্ধা তোমাকে…।”

অ্যান্ড্রু কিশোর দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। অসুস্থ অবস্থায় গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছিলেন এই নন্দিত গায়ক। সেখানে গিয়ে গত ১৮ সেপ্টেম্বর তার শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ে। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক লিম সুন থাইয়ের অধীনে ছিলেন তিনি। গত ১১ জুন একটি বিশেষ ফ্লাইটে সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরেন অ্যান্ড্রু কিশোর। এরপর তিনি রাজশাহীতে বসবাস করছিলেন। ১৫ জুলাই তাকে সেখানেই সমাহিত করা হবে।

অ্যান্ড্রু কিশোর বাংলাদেশে ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ নামে পরিচিত। কয়েক হাজার সিনেমার গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে— জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প, হায়রে মানুষ রঙের ফানুস, ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে, আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি, আমার বুকের মধ্যে খানে, আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান, ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা, সবাই তো ভালোবাসা চায় প্রভৃতি।

এ শিল্পী ১৯৫৫ সালের ৪ নভেম্বর রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগে পড়াশোনা করেছেন। আব্দুল আজিজ বাচ্চুর অধীনে প্রাথমিকভাবে সংগীত পাঠ গ্রহণ শুরু করেন অ্যান্ড্রু কিশোর। মুক্তিযুদ্ধের পর নজরুল, রবীন্দ্রনাথ, আধুনিক, লোক ও দেশাত্মবোধক গানে রেডিওতে তালিকাভুক্ত শিল্পী হন।

অ্যান্ড্রু কিশোরের চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৭ সালে আলম খান সুরারোপিত ‘মেইল ট্রেন’ সিনেমার ‘অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তার কেউ’ গানটি। এরপর ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’তে কণ্ঠ দেন। এর পর বেশ কিছু গান তাকে ভীষণ পরিচিত করে তোলে। তবে তুমুল জনপ্রিয়তা পান বেলাল আহমেদের ‘নয়নের মনি’ সিনেমার গান দিয়ে। ওই সিনেমার পুরো অ্যালবামই হিট, পরে কলকাতায় রিমেকও হয়।

অ্যান্ড্রু কিশোর বড় ভালো লোক ছিল, সারেন্ডার, ক্ষতিপূরণ, পদ্মা মেঘনা যমুনা, কবুল, আজ গায়েহলুদ, সাজঘর, কি যাদু করিলা সিনেমায় কণ্ঠ দিয়ে মোট আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। এ ছাড়া বাচসাস, মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারসহ অনেক স্বীকৃতি পেয়েছেন।