পপ তারকা খুনের জেরে ইথিওপিয়ায় সহিংসতায় মৃত্যু বেড়ে ২৩৯

জনপ্রিয় এক আদিবাসী পপ সংগীত তারকার খুনের জের ধরে ইথিওপিয়ার জের ধরে ইথিওপিয়ায় ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা থামছে না। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই সহিংসতায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ২৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে বলে পুলিশের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

নিহতদের মধ্যে সাধারণ মানুষই বেশি। এ ছাড়া উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পুলিশ সদস্য ও বেশ কয়েকজন মিলিশিয়া সদস্যের মৃত্যু হয়েছে বলেও জানা গেছে।

নিহত সংগীতশিল্পী হাছালু হুন্দেসা ইথিওপিয়ার সবচেয়ে বড় আদিবাসী গোষ্ঠী ওরমোর সদস্য। গত সপ্তাহে সোমবার রাতে রাজধানী আদ্দিস আবাবায় অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে মৃত্যু হয় তার।

পপ তারকা হাছালু হুন্দেসাকে খুনের পর থেকেই ইথিওপিয়ার ওরোমিয়া অঞ্চলে আদিবাসী জনগোষ্ঠীদের মধ্যে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তাবাহিনীদের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থান নেয় বিক্ষোভকারীরা। অবস্থা দেশটিতে চলমান গণতান্ত্রিক ট্রানজিশনের জন্য হুমকি দাঁড়াচ্ছে বলে অনেকের অভিযোগ।

সহিংসতা শুরুর এক সপ্তাহের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও পরিস্থিতি খুব একটা নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বুধবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে ওরোমিয়া অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার মুস্তাফা কাদির বলেন, “এই অঞ্চলে সহিংসতায় নয়জন পুলিশ অফিসার, পাঁচজন মিলিশিয়া সদস্য ও ২১৫ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছে।”

রাজধানী আদ্দিস আবাবায়ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। সেখানে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল।

কয়েক বছর আগে ইথিওপিয়ায় সরকার বিরোধী আন্দোলনের সময় গানের সুরে ওরোমোস আদিবাসীর হয়ে বড় ভূমিকা রাখেন পপ তারকা হাছালু।

সরকার পতন হলে ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসেন আবে আহমেদ, যিনি ২০১৯ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

পুলিশ অফিসার মুস্তাফা জানিয়েছেন, সহিংসতার সময় ওরমো এলাকায় সরকারি-বেসরকারি সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এই অস্থিতিশীল অবস্থা শান্ত করতে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।