এন্ড্রু কিশোরের জন্ম রাজশাহীতে। বড় হওয়াও সেখানে। রাজশাহীতে তার ওস্তাদ ছিলেন আব্দুল আজিজ বাচ্চু। তার তৈরি করা সুরবানী সংগীত বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন কিশোর। সে সময়ে একই ওস্তাদের সাগরেদ ছিলেন রিজিয়া পারভীন, এম এ খালেক, ইফফাত আরা নার্গিস, রফিকুল আলম। আর ছিলেন এন্ড্রু কিশোরের সঙ্গী, জনপ্রিয় সুরকার ইখুন বাবু।
ইথুন বাবু গণমাধ্যমকে জানান, আব্দু আজিজ বাচ্চুর গানের স্কুলটি সত্তরের দশকেই স্থান তিনবার স্থান পরিবর্তন করে। প্রথমে শহরের মধ্যবর্তী অঞ্চল রানীবাজার, পরে ভূবনমোহন পার্কের পাশে এবং পরে শহরের আরেক প্রান্ত বেলদারপাড়ায়।
ইথুন বাবু জানান, তখন শহরের পশ্চিমাঞ্চলে পদ্মাপাড়ের ব্যাপ্টিস্ট খ্রিষ্টান মিশনের কাছে তাদের বাড়ি থেকে এন্ড্রু কিশোর সাইকেলে করে গান শিখতে আসতেন।
এন্ড্রু কিশোর আর ইথুন বাবুর বয়সের পার্থক্য ছিল ১০ বছর। তবে তারা ছিলেন বন্ধুর মতো। জীবনের শেষ সময়েও ইথুন বাবুর সুরে এন্ড্রু কিশোর একটি গান গাওয়ার কথা ছিল। তবে সেটি আর হয়ে ওঠেনি।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ইথুন বাবু গণমাধ্যমকে আরো জানান, ‘দাদা দিনের প্রত্যেক বেলাতেই গানের রেওয়াজ করতেন। আমরা যখনই কেউ তার বাসায় যেতাম প্রায়শই তাকে রেওয়াজরত অবস্থায় দেখতাম। একটা সাইকেলে করে গান শিখতে বিদ্যালয়ে আসতেন। কখনো সাইকেল নষ্ট হয়ে গেলে হেঁটেই চলে আসতেন। কোনোদিন বিদ্যালয় মিস করেননি।’
তিনি বলেন, ‘মনে আছে, আমি অনেকদিন দাদার সঙ্গে তার সাইকেলে চড়ে রাজশাহী মিষ্টান্ন ভান্ডারে গিয়ে সকালের নাস্তা লুচি দিয়ে সেরেছি।’
ইথুন বাবু আরো বলেন, ‘আশির দশকে দাদা ঢাকায় পাড়ি দেওয়ার আগে আমি তবলা বাজাতাম। দাদা হারমোনিয়ম বাজিয়ে গান করতেন। আমরা অনেক স্টেজ শো করেছি। কলেজগুলোর নবীনবরণ অনুষ্ঠানে, বিশেষ করে রাজশাহী কলেজে বহুবার শো করেছি। পাড়া মহল্লার অনুষ্ঠানে, জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে গান করেছি।’
তিনি বলেন, ‘দাদা যেখানেই গান গেয়েছেন সেখানেই শ্রোতার অভাব হতো না। শ্রোতারা তার গানের সময় মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে থাকতেন। দাদার গানের গলা সেই শৈশব থেকেই ছিল যাদুকরী, তার গলায় যে গানই পড়েছে তা সোনা হয়ে গেছে। পরে ঢাকায় সংগীত পরিচালক আলম খানের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর দাদাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।’
ইথুন বাবু বলেন, ‘দাদার সঙ্গে কথা বললেই বোঝা যেত তিনি জীবনদর্শন ভালোভাবে উপলব্ধি করতেন। তিনি তার ওস্তাদকে ভালোবাসতেন। তার ওস্তাদেরও প্রিয় ছিলেন তিনি। তার ষষ্ঠ ইন্দ্রীয় ছিল প্রখর।’
সূত্র: ডেইলি স্টার বাংলা।