নবম দশম শ্রেণি : বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা

সৃজনশীল প্রশ্ন

নিচের উদ্দীপক অংশটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

সুমি তার ইতিহাস শিক্ষকের কাছ থেকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা শুনছিল। মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা ছাড়াও তার নানা তাকে প্রাচীন বাংলার বিভিন্ন বিষয় ও ঘটনা সম্পর্কে বলছিলেন। তিনি বলেছিলেন, মানুষের অতীত ঐতিহ্যের সঙ্গে তার জীবনাচরণের সম্পর্ক লক্ষ করা যায়। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশের বর্তমানকালের রাজনীতি ও সমাজনীতি সম্পর্কেও তাদের জানিয়েছিলেন

ক) ‘অর্থশাস্ত্র’ গ্রন্থটি কে লিখেছেন?

খ) মিসরকে নীল নদের দান বলা হয় কেন?

গ) কোন বিষয় পাঠ করলে সুমি তার শিক্ষকের কাছ থেকে শোনা ঘটনাগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ) উক্ত বিষয় পাঠ করলে কি শুধু অতীত ঘটনাই জানা যায়? উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

উত্তর :

(ক) ‘অর্থশাস্ত্র’ গ্রন্থটি লিখেছেন কৌটিল্য।

খ) নীল নদ মিসরকে সমৃদ্ধ জনপদে পরিণত করেছিল বলে মিসরকে নীল নদের দান বলা হয়।

নীল নদের উৎপত্তি হয়েছে আফ্রিকার লেক ভিক্টোরিয়া থেকে। সেখান থেকে এটি বিভিন্ন দেশ হয়ে মিসরের মধ্য দিয়ে ভূমধ্যসাগরে এসে পড়েছে। ইতিহাসের জনক হেরোডোটাস মিসরকে নীল নদের দান বলে অভিহিত করেছেন। নীল নদ না থাকলে মিসর মরুভূমিতে পরিণত হতো। প্রাচীনকালে প্রতি বছর নীল নদে বন্যা হতো। বন্যার পর পানি সরে গেলে দুই তীরে পলিমাটি পড়ে জমি উর্বর হতো। জমে থাকা পলিমাটিতে জন্মাত নানা ধরনের ফসল। এভাবে নীল নদের ফলে মিসরের ভূমি উর্বর হয়ে ওঠে এবং মিসর পরিণত হয় সমৃদ্ধ জনপদে।

গ) ইতিহাস বিষয় পাঠ করলে সুমি শিক্ষকের কাছ থেকে শোনা ঘটনাগুলো সম্পর্কে জানতে পারবে।

ইতিহাস শব্দটির উৎপত্তি ‘ইতিই’ শব্দ থেকে যার অর্থ ‘ঐতিহ্য’। ঐতিহ্য হচ্ছে অতীতের অভ্যাস, শিক্ষা, ভাষা, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, যা ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষিত থাকে। এই ঐতিহ্য, অতীতের ক্রমবিবর্তন ও অতীত ঐতিহ্যের বস্তুনিষ্ঠ বিবরণই হলো ইতিহাস। অর্থাৎ সমাজ ও রাষ্ট্রের নিরন্তর বয়ে যাওয়া ঘটনাপ্রবাহই ইতিহাস।

সুমি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা শুনছিল। ইতিহাসের জনক হেরোডোটাসের মতে, ‘ইতিহাস হলো সত্যিকার অর্থে ছিল বা সংঘটিত হয়েছিল এমন ঘটনা অনুসন্ধান করা ও লেখা।’ তিনি তার গবেষণায় গ্রিস ও পারস্যের মধ্যে সংঘটিত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো এবং গ্রিসের বিজয়গাথা লিপিবদ্ধ করেছেন, যাতে পরবর্তী প্রজন্ম এ ঘটনা ভুলে না যায়, এ বিবরণ যাতে তাদের উৎসাহিত করে এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে। সুমির শিক্ষক ক্লাসে অন্য ছাত্রছাত্রীদের কাছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরেছেন, যাতে করে তারা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা ছাড়াও সুমি ও তার সহপাঠীদের প্রাচীন বাংলার বিভিন্ন বিষয় ও ঘটনা সম্পর্কে বলছিলেন তাদের শিক্ষক, যা ইতিহাসের আলোচ্য বিষয়। আধুনিক ইতিহাসের জনক জার্মান ঐতিহাসিক লিওপোন্ড ফন র‌্যাংকে মনে করেন, প্রকৃতপক্ষে যা ঘটেছিল তার অনুসন্ধান ও তার সত্য বিবরণই ইতিহাস। সুতরাং আমরা বলতে পারি যে ইতিহাস বিষয় পাঠ করলে সুমি তার শিক্ষকের কাছ থেকে শোনা ঘটনাগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবে।

ঘ) না, উক্ত বিষয় অর্থাৎ ইতিহাস পাঠ করলে শুধু অতীত ঘটনা জানা যায় না, বর্তমানকালে ঘটে যাওয়া তথ্যও জানা যায়।

ইতিহাস হলো বর্তমান ও অতীতের মধ্যে এক অন্তহীন সংলাপ। অতীতের ক্রমবিবর্তন ও অতীত ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে বর্তমানের সব বিষয়।

সুমির শিক্ষক তাকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা, প্রাচীন বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে বলছিলেন, যা অতীতে ঘটে যাওয়া ঘটনা। এ ছাড়া তিনি বলছিলেন মানুষের অতীত ঐতিহ্যের সঙ্গে তার জীবনাচরণের সম্পর্ক লক্ষ করা যায়। এখানে জীবনাচরণ বলতে বর্তমানকে বোঝানো হয়েছে। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশের বর্তমানকালের রাজনীতি, সমাজনীতি সম্পর্কে বলছিলেন। আমরা জানি, এখন বর্তমান সময়েরও ইতিহাস লেখা হয়, যাকে বলে সাম্প্রতিক ইতিহাস। সমাজ ও রাষ্ট্রে নিরন্তর বয়ে যাওয়া ঘটনাপ্রবাহই ইতিহাস। প্রকৃতপক্ষে মানবসমাজের অনন্ত ঘটনাপ্রবাহই হলো ইতিহাস।