রিজেন্ট সাহেদের সহযোগী তারেক শিবলী গ্রেপ্তার

করোনা পরীক্ষা নিয়ে বেসরকারি রিজেন্ট হাসপাতালের অনিয়ম ও প্রতারণার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদের অন্যতম সহযোগী তরিকুল ইসলাম ওরফে তারেক শিবলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

র‍্যাবের অভিযানে রাজধানীর নাখালপাড়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে এক এসএমএস বার্তায় বৃহস্পতিবার জানিয়েছে র‍্যাব।

র‍্যাবের দায়ের করা মামলায় সাহেদের অন্যতম সহযোগী ও রিজেন্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম ওরফে তারেক শিবলী তিন নম্বর আসামি। তার বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে কিছু সাংবাদিককে ম্যানেজ করার অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে ইচ্ছেমতো করোনা পরীক্ষার সনদ দেওয়া নিয়ে আলোচনায় আসা ধুরন্ধর প্রতারক মোহাম্মদ সাহেদ এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কবজায় বলে খবর পাওয়া গেছে। বলা হচ্ছে, গত সোমবার র‍্যাবের অভিযানে তার মালিকানাধীন রিজেন্ট হাসপাতালের রাজধানীর উত্তরা ও মিরপুর শাখা এবং রিজেন্ট গ্রুপের প্রধান কার্যালয় সিলগালা করার পরপরই তাকে হেফাজতে নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী একটি বাহিনী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ ও র‍্যাবের একাধিক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, সাহেদ তাদের নজরদারিতেই আছেন; কোনোভাবেই পালাতে পারবেন না তিনি।

তবে সাহেদ আটক আছেন কি না, সে বিষয়ে বৃহস্পতিবার এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত র‍্যাব-পুলিশের কোনো কর্মকর্তার পরিষ্কার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

করোনার ভুয়া সনদ দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে গত মঙ্গলবার রাতে সাহেদসহ রিজেন্ট হাসপাতাল ও রিজেন্ট গ্রুপের ১৭ জনের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেছে র‍্যাব। এ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা হলো।

মঙ্গলবারের মামলায় র‍্যাবের অভিযানে আটক সাতজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বুধবার আদালতের মাধ্যমে তাদের ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

এছাড়া রিজেন্ট গ্রুপের কার্যালয় এবং রাজধানীর উত্তরা ও মিরপুরের রিজেন্ট হাসপাতালের শাখা দুটি সিলগালা করা হয়েছে।

দেশ রূপান্তরের অনুসন্ধানে রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক সাহেদের বিরুদ্ধে ৬ হাজার মানুষকে কভিড-১৯ টেস্ট না করেই ভুয়া সনদ দেওয়া, প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে প্রভাব খাটানোর, এমএলএম (মাল্টি লেভেল মার্কেটিং) ব্যবসার, ঠিকাদারি ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করার, চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অপকর্মের তথ্য পাওয়া গেছে।