চট্টগ্রাম নগরীতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়লেও থেমে নেই ভেজাল ও নকল সুরক্ষাসামগ্রীর বেচাকেনা। নগরী থেকে এসব সামগ্রী এখন ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন উপজেলায়। এতে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. সুশান্ত বড়–য়া জানান, করোনা আতঙ্কে মানুষ সুরক্ষাসামগ্রীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এই সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। তাদের ভেজাল ও নকল পণ্য ব্যবহার করে মানুষের শরীরে নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে।
নগরীর পুরাতন বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে ফুটপাতে সুরক্ষাসামগ্রী বিক্রি করেন জসীম উদ্দীন। পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় হাজারী গলির অসাধু সিন্ডিকেট থেকে ভেজাল মাস্ক ও স্যাভলন কিনে খুচরা বিক্রি করছেন। তিনি জানান, হোটেলে কাজ করতেন। করোনায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ফুটপাতে এসব বিক্রি করছেন। স্যাভলনের স্থলে ‘সভলন’ ও হেক্সিসলের স্থলে ‘হেক্সিলা’ বিষয়ে জসীমের কিছুই জানা নেই। নগরীর অলিগলি, পাড়া-মহল্লা এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অনেক ফল ও সবজি বিক্রেতা এখন সুরক্ষাসামগ্রী বিক্রি করছেন। ইপিজেড ও বন্দরটিলা এলাকায় অসংখ্য দোকান গড়ে উঠেছে। এসব চালাচ্ছে হাজারী লেইনের একটি সিন্ডিকেট। তারা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিষাক্ত কেমিক্যাল ও নিম্নমানের পণ্য তৈরির কারখানা গড়ে তুলেছেন।
সরেজমিনে নগরীর নিউমার্কেট, চেরাগী পাহাড়, আন্দরকিল্লা, টেরিবাজার ও হাজারী লেইনে দেখা যায়, মানুষ এসব নকল ও ভেজাল হ্যান্ড স্যানিটাইজার, স্যাভলন, হারপিক, হ্যাক্সিসল, মাস্ক ও গ্লাভস দেদার কিনছেন। আকার ভেদে এসব ২০ থেকে ৪০, ৬০ ও ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গত ২৯ জুন নগরীর মধ্যম সুপারিওয়ালা পাড়া এলাকার এ.আর চট্টলা কেমিক্যাল কারখানায় অভিযান চালায় জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেখানে সুরক্ষাসামগ্রী তৈরি হলেও নেই কোনো ল্যাব, কেমিস্ট এমনকি সরকারি অনুমোদন। কারখানার মালিক মো. রাশেদ নিজেই কেমিস্ট বনে গেছেন। এ সময় ১০০ ড্রাম ক্ষতিকর কেমিক্যাল জব্দ করে কারখানা সিলগালা এবং রাশেদকে ৬ মাসের কারাদ- ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুক বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নামি ব্র্যান্ডের নকল হেক্সিসল তৈরি করছিল। ছদ্মবেশে এখানে অভিযান চালিয়ে নকল হ্যান্ড সানিটাইজার, স্যাভলন, হারপিকসহ বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করা হয়।’
ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হোসাইন মোহাম্মদ ইমরান বলেন, ‘বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও হেক্সিসলের দাম কমেছে, সরবরাহও পর্যাপ্ত। মানুষের উচিত ফার্মেসি থেকে এসব সামগ্রী কেনা।’ তিনি আরও বলেন, ‘অনেকে খালি বোতলে লেবেল, কার্টন করে নিজেরাই রং, ফ্লেভার, স্পিরিট মিশিয়ে নামি কোম্পানির মতো নকল পণ্য বাজারজাত করছে। নজরদারির সঙ্গে অভিযান বাড়ানো হয়েছে। কোনো নকল পণ্য বিক্রি করতে দেওয়া হবে না।’
এ বিষয়ে চমেক হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. একিউএম সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ভেজাল ও নকল সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহারে চর্মরোগ ও ক্যানসার হতে পারে। বিষাক্ত কেমিক্যাল ব্যবহারে সুরক্ষার বিপরীতে অ্যালার্জিসহ জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এজন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে।’