অষ্টম শ্রেণি : বাংলা প্রথম পত্র

গল্প : তৈলচিত্রের ভূত

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

অনুচ্ছেদটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

গ্রীষ্মের ছুটিতে সোয়েব নানা বাড়িতে বেড়াতে যায়। রাতের আকাশ দেখার জন্য মামার সঙ্গে খোলা মাঠে যায়। অদূরেই দেখতে পায় মাঠের মধ্যে হঠাৎ এক প্রকার আলো জ্বলে উঠে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। ওটা কীসের আলো জানতে চাইলে সোয়েবের মামা বলেন, এটা ভূতের রাজা। সোয়েব ভয় পেয়ে তার মামাকে জড়িয়ে ধরে। মামা তখন তাকে বুঝিয়ে বলেন, ওটা ভূত নয়। খোলা মাঠের মাটিতে এক প্রকার গ্যাস থাকে যা বাতাসের সংস্পর্শে এলে জ্বলে ওঠে। সোয়েব বিষয়টা বুঝতে পেরে স্বাভাবিক হয়।

প্রশ্ন : ক) ‘তৈলচিত্রের ভূত’ কোন জাতীয় রচনা?

খ) নগেনের মনে দারুণ লজ্জা আর অনুতাপ জেগেছিল কেন?

গ) উদ্দীপকের সোয়েব আর ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের নগেনের বিশেষ মিল কোথায় ব্যাখ্যা করো।

ঘ) রফিক সাহেব আর তৈলচিত্রের ভূত গল্পের পরামর্শ ডাক্তার উভয়কে আধুনিক মানসিকতার অধিকারী বলা যায় কি? যুক্তিসহকারে বুঝিয়ে লিখ।

উত্তর :

ক. ‘তৈলচিত্রের ভূত’ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা একটি কিশোর-উপযোগী ছোটগল্প।

খ. দেবতার মতো মামাকে সারা জীবন ভক্তি ও ভালোবাসার ভান করে ঠকিয়েছে ভেবে নগেনের মনে দারুণ লজ্জা আর অনুতাপ জেগেছিল।

নগেন তার মামার বাড়িতে থেকে কলেজে পড়ে। মৃত্যুর আগে মামা তাকেও প্রায় নিজের ছেলেদের সমান টাকাকড়ি দিয়ে গেছেন জেনে নগেন প্রথমে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। মামার এ রকম উদারতা সে কোনো দিন কল্পনাও করতে পারেনি। বাইরে যেমন ব্যবহারই করে থাকুন, মামা তাকে নিজের ছেলেদের মতোই ভালোবাসতেন জেনে পরলোকগত মামার জন্য আন্তরিক শ্রদ্ধা-ভক্তিতে তার মন ভরে গেল। এ রকম দেবতার মতো মানুষকে সারা জীবন ভক্তি ও ভালোবাসার ভান করে ঠকিয়েছে ভেবে নগেনের মনে দারুণ লজ্জা আর অনুতাপ জেগেছিল।

গ. উদ্দীপকের সোয়েব আর ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের নগেনের বিশেষ মিল রয়েছে। তারা উভয়েই বিজ্ঞানসম্মত কোনো বিচার-বিশ্লেষণ না করেই অন্ধ কুসংস্কারের বশে উভয়েই ভূতে বিশ্বাস করেছে।

উদ্দীপক গ্রীষ্মের ছুটিতে গ্রামে বেড়াতে নিয়ে যায়। সেখানে রাতে খোলা আকাশ দেখতে মাঠে যায়। মাঠে হঠাৎ এক প্রকার আলো জ্বলে উঠে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে দেখে। কীসের আলো? সোয়েবের এমন প্রশ্নের উত্তরে মামা তাকে ভয় দেখানোর জন্য বললেন, এটা ভূতের রাজা। কিন্তু পরক্ষণেই তিনি বুঝিয়ে বললেন যে, ওটা ভূত নয়। খোলা মাঠের মাটিতে এক প্রকার গ্যাস থাকে যা বাতাসের সংস্পর্শে এলে জ্বলে ওঠে। ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের নগেন মামার তৈলচিত্রকে ভূত বলে ভেবেছে। পরে তার ভুল ভাঙে। সেটি যে বিদ্যুতের শক তা সে বুঝেছে। উদ্দীপকের সঙ্গে গল্পের বিশেষ মিলটি হলো সোয়েব ও নগেন উভয়ের ভূতে বিশ্বাস। অথচ ভূতে বিশ্বাস নিয়ে মানুষের মধ্যে যে কুসংস্কার বিদ্যমান তা ভিত্তিহীন, কাল্পনিক ও অন্তঃসারশূন্য। বিজ্ঞানসম্মত বিচার-বুদ্ধির মাধ্যমে এ কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস সহজেই দূর করা সম্ভব।

ঘ. উদ্দীপকের মামা আর ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের পরাশর ডাক্তার উভয়কে আধুনিক মানসিকতার অধিকারী বলা যায়। কারণ উভয়ের মধ্যে আধুনিক বিজ্ঞানমনস্কতা ও চিন্তা বিদ্যমান। উদ্দীপকে সোয়েব গ্রামে বেড়াতে যায়। সেখানে রাতের বেলা খোলা মাঠে হঠাৎ আগুন জ্বলে ওঠে, সামনের দিকে এগিয়ে যেতে দেখে। বিষয়টি নতুন বলে সোয়েব ভয় পেয়ে যায়। তার ভূতে বিশ্বাস আছে। সে জন্য তাকে আরও বেশি ভয় দেখাতে মামা বললেন, এটা ভূতের রাজা। সে যখন সত্যি সত্যিই ভূতে বিশ্বাস করে ভয় পেতে লাগল, তখন মামা বৈজ্ঞানিক কারণ ব্যাখ্যা করে বুঝিয়েছেন যে, সেটি ভূতের কাজ নয়। মাটির এক প্রকার গ্যাস, যা বাতাসের সংস্পর্শে এলে জ্বলে ওঠে।

‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের মধ্যে নগেন তার মামার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তৈলচিত্রের ওপর হাত রাখতে গিয়ে বিদ্যুতের শক খায়। কিন্তু সে বুঝতে পারে না, ভূত ভেবে সে ভয় পেয়ে যায়। ভয় পেয়ে সে পরাশর ডাক্তারের কাছে সব খুলে বলে, ডাক্তার নগেনের মানসিক অবস্থা বুঝতে পেরে নিজেই সেই তৈলচিত্রটি পরীক্ষা করতে রাজি হন। পরাশর তৈলচিত্রটি স্পর্শ করে বিদ্যুতের শক খেলেন। কিন্তু সচেতন, বিজ্ঞানসম্মত যুক্তিতর্কের মানুষ বলে ভাবতে থাকলেন। শেষে বুঝতে পারলেন যে, তৈলচিত্রটি রুপার ফ্রেমে আটকানো ও তাতে বিদ্যুৎ সংযোগ হয়ে গেছে অদক্ষ হাতে বিদ্যুৎ লাইনের কাজ করার কারণে। বিষয়টি তিনি নগেনকে ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দিলেন। নগেন সব কিছু বুঝতে পারল। এরপর তার মধ্যে ভূতের ভয় এবং বিশ্বাস থাকল না।