শুটার-আরচারদের অনুশীলনে ফেরানোর পরিকল্পনা

আরচার ও শুটারদের অনুশীলনের মধ্য দিয়ে করোনার কারণে ক্রীড়াঙ্গনের চলমান স্থবিরতা কাটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গতকাল কয়েকটি ক্রীড়া ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। মন্ত্রণালয়ের এই আলোচনায় আরচারি, শুটিং ছাড়াও সাঁতার, ভলিবল, হ্যান্ডবল, কারাতে ও তায়কোয়ান্দো ফেডারেশন এবং মহিলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তারা অংশ নেন।

আরচার ও শুটারদের অনুশীলন শুরুরটা বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে দুটি কারণে। প্রথমত আগামী অলিম্পিক গেমসে এই দুটি ডিসিপ্লিন থেকে প্রতিনিধিত্ব থাকবে বাংলাদেশের। দ্বিতীয়ত দুটি ডিসিপ্লিনে শরীরী সংস্পর্শের (বডি কন্টাক্ট) ব্যাপার নেই। অচিরেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করে এই দুটি ফেডারেশনকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনুশীলন শুরু করানোর কথা বলেছেন তিনি।

১৭ মার্চের পর প্রায় সাড়ে ৩ মাস দেশে খেলাধুলার সবরকম প্রতিযোগিতা বন্ধ। খেলা নেই বলে ক্রীড়াবিদরা চরম দুর্দশার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তাদের আয় রোজগারের পথ একেবারেই বন্ধ। সরকারের পক্ষ থেকে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও তার চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। এদিকে বিশ্বের অনেক দেশেই খেলাধুলা শুরু হয়ে গেছে। এসব দিক চিন্তা করেই দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অচলাবস্থা সীমিত আকারে হলেও কাটাতে চান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, ‘অলিম্পিক গেমসকে সামনে রেখে আরচারি ও শুটিং জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু করতে চাইছে। আমরাও প্রাথমিকভাবে তাদের দিয়েই ক্রীড়াঙ্গনের চলমান স্থবিরতা সীমিত আকারে কাটানোর পরিকল্পনা করেছি। তার আগে অবশ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলতে হবে। তাদের অনুমতি ছাড়া কিছু করা যাবে না।’ অন্যান্য খেলার ব্যাপারে রাসেল বলেন, ‘অন্যান্য অনেক ফেডারেশনও খেলা শুরু করতে চাইছে। খেলোয়াড়দের জায়গা থেকে চিন্তা করলে এটা ভালো দিক। কিন্তু ভয়ের ব্যাপার হলো আমরা অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে চাই না। ফেডারেশনগুলোকে বলেছি তারা কী করতে চায় এবং কীভাবে করতে চায়, সেসব লিখিত আকারে আমাদের জানাতে। আলোচনা করে একটা সিদ্ধান্ত পৌঁছাতে পারব।’

মাঠে খেলা না চালিয়ে এভাবে ক্রীড়াঙ্গনের দুর্দশা লাঘব করা সম্ভব নয়। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যে কোনো উপায়েই হোক ক্রীড়াঙ্গন সচল করার বিকল্প নেই। দিনের পর দিন খেলা না থাকলে ক্রীড়াবিদসহ সংশ্লিষ্টদের অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকবে। করোনার মধ্যেই বিশ্বের অনেক জায়গায় খেলা শুরু হয়েছে। আমরাও ধীরে ধীরে সে পথে হাঁটব।’