করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যায় শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র। তার মধ্যেই বুধবার শুরু হয়েছে দেশটির ফুটবল লিগ মেজর লিগ সকার (এমএলএস)। ফ্লোরিডায় ওরল্যান্ডো সিটি ২-১ গোলে হারিয়েছে ইন্টার মিয়ামিকে। ম্যাচ শুরুর আগে অভিনব এক উপায়ে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে এমএলএস লিগের একটি গ্রুপ-ব্ল্যাক প্লেয়ারস ফর চেইঞ্জ।
কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড হত্যার পর বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ অর্থাৎ কালোদের জীবনেরও মূল্য আছে আন্দোলন। খেলাধুলা এবং সমাজজুড়ে যে বর্ণবৈষম্য তার বিরোধিতা করতে এমএলএস শুরুর দিনকেই বেছে নেয় এই লিগে খেলা খেলোয়াড়দের গ্রুপ ‘ব্ল্যাক প্লেয়ারস ফর চেইঞ্জ’। ম্যাচ শুরুর আগে মাঠে প্রবেশ করে প্রথমে ৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড মুঠ করা হাত উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকে। মৃত্যুর আগে ৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড ফ্লয়েডের গলায় হাঁটু দিয়ে চেপে ধরেছিল পুলিশ। গ্রুপটিতে ছিল ১৭০-এর বেশি কৃষ্ণাঙ্গ ফুটবলার। তারা প্রত্যেকেই পরেছিল কালো রঙের মাস্ক। তাতে লেখা ছিল ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’। তাদের গায়ে ছিল কালো রঙের টি-শার্ট, কালো রঙের ট্রাউজার। টি-শার্টে ‘ব্ল্যাক অ্যান্ড প্রাউড’ (কালোই গর্ব), ব্ল্যাক অল দ্য টাইম (সব সময়ই কালো) এই ধরনের সেøাগান লেখা ছিল।
খেলোয়াড়দের একজন টরন্টো এফসির জাস্টিন মোরো, যিনি ইন্সটাগ্রামে প্রথম গ্রুপটি তৈরি করেছিলেন। তিনি বলেছেন, ‘এই প্রতিবাদ জাতিগত সমান অধিকার এবং মানবাধিকারের লড়াইয়ের জন্য। আমরা বিশ্বজুড়ে আমাদের সব ভাই-বোনের পাশে দাঁড়িয়েছি। উত্তর আমেরিকার স্পোর্টস তো আছেই, ইউরোপে কী ঘটছে তাও দেখতে পাচ্ছি। সেখানের ফুটবলাররাও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ।’ ম্যাচ হারলাও এই ধরনের প্রতিবাদে শামিল হতে পেরে খুশি ইন্টার মিয়ামির খেলোয়াড় জুয়ান আগুডেলো। ‘অনেক মানুষ যারা এই দেশে পরিবর্তন আনতে চাইছে, তাদের সঙ্গে মিলে (বর্ণবাদের বিরুদ্ধে) প্রতিবাদ করতে পেরে ভালো লাগছে। এটিই আমাদের করা উচিত।’
এবারই প্রথম ২৬ দলে হওয়ার কথা ছিল এমএলএস। তবে করোনার কারণে একটি দলের খেলা বাদ দেওয়া হয়েছে। এফসি ডালাস থাকছে না, সেই অঞ্চলে করোনা রোগী বেশি থাকায়। এছাড়া বুধবার নাসভিলে ক্লাবের খেলাও বাতিল হয় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায়। ইন্টারনেট।