অভিবাসীদের দুর্দশা নিয়ে ডকুমেন্টারি, আল-জাজিরার সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসাবাদ

অভিবাসীদের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে আল-জাজিরায় সম্প্রতি যে ডকুমেন্টারি সম্প্রচারিত হয়েছে সেটি নির্মাণে জড়িত অস্ট্রেলিয়ান সাংবাদিকদের একটি দলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠিয়েছে মালয়েশিয়ার পুলিশ।

আল-জাজিরায় সম্প্রচারিত ‘লকড আপ ইন মালয়েশিয়া ডকডাউন’ ডকুমেন্টারিতে দেখা যায়, করোনাভাইরাসের কারণে কঠোর লকডাউন আরোপিত এলাকাগুলো থেকে বৈধ কাগজপত্র না থাকার অভিযোগে অনেক অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে।

অথচ আটক অভিবাসীরা বলছেন, তাদের কাগজ পত্রের কোনো সমস্যা নেই। ফাঁদে ফেলে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আল-জাজিরার ‘১০১ ইস্ট’ শোতে প্রচারিত এই ডকুমেন্টারিতে আটক এক বাংলাদেশি অভিবাসীর বক্তব্য রয়েছে।

এ ঘটনার পর থেকে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়া মালয়েশিয়ার সরকারের দাবি, ডকুমেন্টারিটি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং তথ্যগুলো সঠিক নয়। এতে জড়িত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মানহানি ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত করছে পুলিশ।

গভীর অনুসন্ধানধর্মী ডকুমেন্টারি শো ‘১০১ ইস্ট’ এর কাজে জড়িত বেশ কয়েকজন অস্ট্রেলিয়ান সাংবাদিককে শুক্রবার কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়ার পুলিশের প্রধান কার্যালয়ে ডেকে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

এর মধ্যে রয়েছেন আল-জাজিরার এই শো’তে জড়িত একজন রিপোর্টার, একজন নির্বাহী প্রোডিউসার ও একজন ক্যামেরাম্যান। সঙ্গে আরও দুই স্টাফসহ নিজেদের আইনজীবীদের নিয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে উপস্থিত হন তারা।

পরে আইনজীবী হিসিয়াম তেহ পোহ তিয়েক  সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “সকল অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন তারা। এই ডকুমেন্টারির মাধ্যমে তাদের হানিকর কিছু করার উদ্দেশ্য ছিল না।”

গত ৩ জুলাই সম্প্রচারিত ডকুমেন্টারিটি নিয়ে সাংবাদিকদের এভাবে তলব করায় ‘বিস্ময়’ প্রকাশ করেছে আল-জাজিরা কর্তৃপক্ষ। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ‘পেশাদারি, গুণমান ও নিরপেক্ষতা’ নিরিখেই তারা সাংবাদিকতা করে।

“আল-জাজিরার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পুলিশি তদন্ত হচ্ছে। এতে আল-জাজিরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। সাংবাদিকদের কাজের জন্য তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা গণতন্ত্রের কাজ নয়, এটা বাক্‌স্বাধীনতার অন্তরায়। সাংবাদিকতা সন্ত্রাসী নয়।”

আল-জাজিরার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম চালানোয় মালয়েশিয়ার বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের যেসব অভিযোগ উঠছে তা আরও জোরালো হলো।

শুধু আল-জাজিরা নয় সম্প্রতি দেশটির শীর্ষ সারির একটি নিউজ পোর্টালের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিষয়ক একটি নিউজ পোর্টালের ওপর আপত্তিকর সংবাদ প্রকাশ করার অভিযোগের তদন্ত হচ্ছে।