কুয়াকাটায় ১৭ শ্রমিকের করোনা শনাক্তের খবর নিয়ে চলছে লুকোচুরি। চীনা কোম্পানি নর্থ ইস্ট পাওয়ার কোম্পানি (এনইপিসি) শ্রমিকদের কাজে যোগদানের জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে নিয়ে এসেছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। শ্রমিকরা সবাই হোটেলে অবস্থান করছিল। পায়রা তাপ বিদ্যুতকেন্দ্রের নির্মাণ কাজে যোগদানের জন্য এসব শ্রমিকদের কুয়াকাটায় আবাসিক হোটেলে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়।
শনিবার সকাল ১০টায় কলাপাড়া স্বাস্থ্য বিভাগ হোটেলে অবস্থানরত ১৭ শ্রমিকের করোনা শনাক্তের খবর গণমাধ্যম কর্মীদের জানায়। জানানো হয় মহিপুর থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামানকে। পুলিশ তাৎক্ষণিক ৮টি হোটেলে থাকা ওই শ্রমিক ছাড়াও হোটেল ব্যবস্থাপনায় জড়িত সকলকে আইসোলশনে থাকার নির্দেশ দেন।
শনিবার দুপুরে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. চিন্ময় হাওলাদার পুনরায় গণমাধ্যমকে জানান, ওই ১৭ শ্রমিক করোনা শনাক্তের মেইলটি পেয়েছি গাজীপুরের একটি হাসপাতালের। এটি করোনা টেস্টের জন্য সরকারি অনুমোদন আছে কি না তা নিশ্চিত হতে বিষয়টি পটুয়াখালীর সিভিল সার্জনকে অবগত করেছেন।
তিনি বলেন, ওই শ্রমিকদের নমুনা সংগ্রহের অনুমতি কিংবা রিপোর্ট জেলা সিভিল সার্জনের অনুমতি নিয়ে করতে হবে।
অপরদিকে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, ১৭ শ্রমিকের করোনা শনাক্ত হওয়ার খবর প্রকাশ হয়ে পড়লে টনক নড়ে কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্সদের। সদ্য লকডাউন খুলে দেওয়া পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। পুনরায় বন্ধ হয়ে যেতে পারে হোটেল ব্যবসা এ শংকায় দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন তারা।
মহিপুর থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, পায়রা তাপবিদ্যুত কেন্দ্রে কাজে যোগদানের জন্য দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ৩১৫ শ্রমিক ২৭ জুন থেকে ২৯ জুন কুয়াকাটার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে। হোটেল মালিকরা তাকে এ তথ্য দিয়েছে।
বর্তমানে ওই ১৭ শ্রমিকের করোনা আক্রান্তের খবরটি নিশ্চিত হয়ে তাঁদের আইসোলেশন নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ।
কলাপাড়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক জানান, স্বাস্থ্য বিভাগ সিদ্ধান্ত দিলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।