গাছ থেকে ‘কভিড ডলার’ মহামারীর অর্থনৈতিক ধাক্কা

বিগত শতকের ফেলে আসা কোনো শহর, যেখানে প্রাণের অস্তিত্ব নেই। অথচ এ শহরেই অর্থনৈতিক সংকটাবস্থা দূর করতে স্থানীয় একটি গাছের কাঠ দিয়ে কর্র্তৃপক্ষ মুদ্রা তৈরি করেছে।

শহরটির মেয়ার ওয়েন ফোর্নিয়ার এএফপিকে বলেন, ‘করোনার কারণে কোনো ব্যবসা হচ্ছিল না। সবকিছু বন্ধ। রাস্তাগুলোতে কোনো মানুষ ছিল না। রাত ৩টায় যেমন, দিনের বেলা ৩টার সময়ও একই রকম মনে হতো। প্রতিদিনই অনেক ব্যবসায়ী আমাদের ফোন দিয়ে তাদের অসহায়ত্বের কথা বলত।’ কেউ বলবে না যে ওয়াশিংটন রাজ্যের এই শহরে ১ হাজার ৮০০ মানুষের বাস।

শহরের একমাত্র জাদুঘরের অধীনে থাকা প্রিন্টিং প্রেসটিকে কাজে লাগানোর কথা চিন্তা করে কর্র্তৃপক্ষ। তারা কাঠ দিয়ে ১০ হাজার ডলার মূল্যমানের একধরনের মুদ্রা তৈরি করে, যার প্রতিটি এককের ম্ল্যূ ২৫ ডলার। মুদ্রার এক পিঠে প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের ছবি এবং ছবির নিচে লেখা ‘উই হ্যাভ গট ইট আন্ডার কন্ট্রোল’। ছাপাকৃত এই অর্থ স্থানীয়দের দেওয়া হয়। প্রত্যেক বাসিন্দাকে মাসে ৩০০ ডলার দেওয়ার বন্দোবস্ত হয়।

কভিড ডলার নামে পরিচিত এই ডলার ওই শহরের সব দোকানেই চলে। এর মাধ্যমে স্থানীয়রা নিজেদের মধ্যে অনায়াসেই কেনাকাটা করতে পারছেন। তবে এই মুদ্রার চল শুধু এ শহরের মধ্যেই। বাইরে এর কোনো মূল্য নেই। ১৯৩০ সালের মহামন্দা পরিস্থিতির সময়ও শহরটির কর্র্তৃপক্ষ এভাবে অর্থনৈতিক দুরবস্থা থেকে নিজেদের টিকিয়ে রেখেছিল। তৎকালীন সময়ে একটি গাছের ছাল দিয়ে মুদ্রা বানিয়েছিল তারা। ১৯৩০ সালের ওই ধারণার ওপর ভিত্তি করেই এই করোনা বাস্তবতা মোকাবিলার সাহস দেখিয়েছে শহরটি।

শহরের মুদিখানা মালিক ক্রিস হ্যামিলটন বলেন, ‘এই মুদ্রা চালু করার পর অন্যদের কাছে শহরের বেশি বিজ্ঞাপন হয়েছে। অনেক মানুষ এখন এই শহরের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। আগে যেখানে শহরের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে চলে যেত মানুষ। এখন তারা থামছে এবং আইসক্রিমসহ বিভিন্ন উপকরণ কিনছে। সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের কাঠের মুদ্রা ইবে ও অ্যামাজনে অনেক মানুষ সংগ্রহের জন্য কিনছে।’