২৫ বছরের বেশি সময় ধরে অমিতাভ বচ্চনের লিভার ঠিকমতো কাজ করছে না। অনেকটা অংশই কেটে ফেলতে হয়েছে। হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের স্থায়ী বাহকও তিনি। টিবি, অ্যাজমার মতো অসুখের ইতিহাসও আছে। করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর সেই সব অসুখের কারণে ঝুঁকি বাড়তে পারে।
শনিবার কভিড পজিটিভ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৭ বছরের অমিতাভ। তবে তিনি গুরুতর অসুস্থ, এমন নয়। আপাতত শ্বাসকষ্ট কিংবা অন্য কোনো বড় সমস্যা নেই।
বিশেষজ্ঞ অরুণকুমার মজুমদার কলকাতার সংবাদমাধ্যম এই সময়কে বলেন, “অসুখ-বিসুখ, জীবাণু, সংক্রমণ ইত্যাদি ব্যাপারগুলো কে সেলিব্রিটি আর কে সাধারণ, সে সব তফাত বোঝে না। ফলে টিবি কিংবা অ্যাজমার মতো রোগ সব শ্রেণির মানুষের ফুসফুসের জোর কমিয়ে দেয়। বিগ বিও তার ব্যতিক্রম নন। তবে তিনি যে পর্যায়ের চিকিৎসা সেবা পেতে পারেন, সবাই তা পায় না।”
অরুণ বলেন, “ওনার প্রেশার-সুগার সম্পর্কে কিছু জানি না। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে তিনি নিজেই যে সব অসুখ-বিসুখের কথা বলেছেন, তার ভিত্তিতেই বলতে পারি, টিবি বা অ্যাজমা থাকলে আর পাঁচজনের ক্ষেত্রে কভিড যতটা ঝুঁকির, তার ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হবে না।”
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ সুকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, “এমনিতেই ৭৭ বছর বয়সটা যে কভিডের জন্য যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। তার ওপর আবার ওনার এতগুলি কো-মর্বিডিটি। উপসর্গ যদি মামুলি হয়, ভাইরাস যদি নিউমোনিয়ার জন্ম না দেয়, তা হলে ঠিকই আছে। কিন্তু সে সব হলে সামাল দেওয়াটা চ্যালেঞ্জের। ওনার নিজের জন্য তো বটেই, চিকিৎসকদের জন্যও।”
লিভার রোগ বিশেষজ্ঞ অভিজিৎ চৌধুরী অবশ্য মনে করেন, “বয়স হয়েছে আর লিভারের সমস্যা আছে মানেই সব শেষ হয়ে যায় না। লিভার এমন একটা অঙ্গ যা বারবার শেষ থেকে শুরু করেও আখেরে যুদ্ধটা জিতে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে। লড়াইটা শক্ত বটে, কিন্তু অসম্ভব নয় একেবারেই।”
অমিতাভের পাশাপাশি করোনা পজিটিভ ফলাফল নিয়ে মুম্বাইয়ের নানাবতী হাসপাতালে ভর্তি আছেন তার ছেলে অভিষেক। অন্যদিকে বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন পুত্রবধূ ঐশ্বরিয়া ও নাতনি আরাধ্যা। তবে অমিতাভের স্ত্রী জয়া বচ্চনের করোনা নেগেটিভ এসেছে।