কুড়িগ্রামের ধরলার পানি ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামের পর গ্রামে, ঢুকছে বানের পানি। ৯ উপজেলার ৫৬টি ইউনিয়নে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ।
এ দিকে গত ১০ দিন আগে হয়ে যাওয়া বন্যায় বানভাসী মানুষজনের সঞ্চিত খাদ্য ও অর্থ শেষ হয়ে যাওয়ায় পরিবারগুলো পড়েছে মারাত্মক বিপাকে।
এদিকে ভারতের আসামের ধুবরী জেলার মানকাচরের কালো নদী দিয়ে পাহাড়ি ঢল, রৌমারী উপজেলার সীমান্তঘেঁষা জিঞ্জিরাম নদীতে তীব্র গতিতে প্রবেশ করছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন নদী পারের মানুষজন। শতাধিক গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এখানে।
রৌমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল্লাহ জানান, বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। তলিয়ে গেছে বন্দবেড় ইউনিয়নের কুটিরচর, কান্দাপাড়া, টাঙ্গারীপাড়া, বাইশপাড়া, যাদুরচর ইউনিয়নের চাক্তাবাড়ি, দিগলেপাড়া, নতুনগ্রাম, ধনারচর নতুনগ্রাম, চরেরগ্রাম, হাট মোল্লাপাড়া, পাখিউড়া, রৌমারী সদর ইউনিয়নের ঠনঠনিপাড়া, ভুন্দুরচর, বারবা›ন্ধা, চুলিয়ারচর, চান্দারচর, নওদপাড়া, ব্যাপারী পাড়া, খাটিয়ামারী, রতনপুর, চরবামনেরচর, মোল্লারচর, শৌলমারী ইউনিয়নের বেহুলারচর, সুতিরপাড়, বোয়ালমারী, কলমেরচর, গয়টাপাড়া, চরশৌলমারী ইউনিয়নের ঘুঘুমারী, খেদাইমারী, চরখেদাইমারী, দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ইটালুকান্দা, চরগয়টাপাড়া ও ছাটকড়াইবাড়ীসহ উপজেলার প্রায় ১১৫টি গ্রাম। এতে করে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ৮’শ পরিবার। পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে পাট, তিল, তিশি, কাউন, চিনা, রোপা আমন, বীজতলাসহ প্রায় ৭’শ হেক্টর জমির ফসল।
ফুলবাড়ী উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে দুই হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে ৭শ পরিবার। তলিয়ে গেছে পাট, ভুট্টা, কলা, সবজি ক্ষেত,বীজতলা ও আউশ ধান।
উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের পানিবন্দী গ্রামগুলোর মধ্যে রাঙ্গামাটি, খোচাবাড়ী, ভাঙ্গামোড়, চর বড়লই, হামিদ মেম্বারে মোড়, ওয়াবদা বাজার, সুফিয়ার মোড়, বাঘ খাওয়ার চর, পশ্চিম ধনিরাম, পূূবর্ ধনিরাম, কবির মামুদ, প্রানকৃষ্ণ, জুগৎকৃষ্ণ, যতীন্দ্র নরায়ণ, চর শিমুলবাড়ী, পেঁচাই, গুয়াবাড়ী ঘাট, কান্তাপাড়া, চর গোরুকমন্ড, নামাটারী, কৃষ্ণনন্দ বকসি ও খোকারচর। এসব পানিবন্দী পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে জীবন যাপন করছেন।
পানি উন্ননয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, উজানে তিস্তা ও ধরলার পানি কমতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার থেকে কুগ্রিামে এ দুটি নদীর পানি কমতে শুরু করবে বলে আশা করছেন। তবে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি আরো ২/৩ দিন বাড়তে থাকবে। ফলে ওইসব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটবে।
তিনি জানান, সোমবার বিকালে কুড়িগ্রাম সেতু পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি বিপদ সীমার ৯৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে, কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা ১৬ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি নুন খাওয়া পয়েন্টে ৬৩ সেন্টিমিটার ও চিলমারী পয়েন্টে ৬২ সেন্টিমিটার বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।