রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান, করোনা রিপোর্ট কেলেঙ্কারির হোতা মোহাম্মদ সাহেদের বিরুদ্ধে এবার চট্টগ্রামের এক ব্যবসায়ী অর্থ আত্মাসাতের মামলা করেছেন।
সোমবার বিকালে সিএমপির ডবলমুরিং থানায় সাহেদ ও তার এক সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন বন্দর নগরীর ১৩৮০ ডিটি রোড় ধনিয়ালা পাড়ার মেসার্স মেগা মোটর্সের ম্যানেজার মো. সাইফুদ্দিন।
মামলায় আমদানি করা ২০০ গাড়ি (সিএনজি থ্রি হুইলার) ঢাকা শহরে চলাচলের জন্য রোড় পারমিট করে দেয়ার কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে বাদি জানান, সাহেদ নিজেকে দেশের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি পরিচয় দিয়ে মেসার্স মেগা মোটর্সের আমদানি করা সিএনজি থ্রি হুইলার ২০০ গাড়ি ঢাকা শহরে চলাচলের জন্য রোড পারমিটসহ আনুসঙ্গিক অনুমোদন নিয়ে দিতে পারবে বলে ২০১৭ সালের ২২ জানুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের ৭ মার্চ পর্যন্ত সময়ে দফায় দফায় নগদ ও চেকের মাধ্যমে ৯১ লাখ ২৫ হাজার টাকা নিয়ে বিটিআরসির চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরযুক্ত একটি রোড পারমিট ধরিয়ে দেয়।
তবে, তা নিয়ে বিটিআরসিতে যোগাযোগ করলে এ ধরণের কোনো অনুমোদন দেয়া হয়নি বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি। ভুয়া অনুমোদনপত্র নিয়ে সাহেদের সাথে যোগাযোগ করলে সে টাকা ফেরত না দিয়ে কালক্ষেপন করে এবং রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে হুমকি ধমকি দিতে থাকে। তার হুমকিতে মেসার্স মেগা মোটর্সের মালিক জিয়াউদ্দিন জাহাঙ্গীর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং বর্তমানে তিনি শয্যাশায়ী।
মামলার বাদি বলেন, আমরা টাকা উদ্ধারে অনেক চেষ্টা করেছি। ঢাকায় গিয়ে তার (প্রতারক সাহেদের) অফিস সীলগালা করেছি। একজন যুবলীগ নেতার মাধ্যমে টাকা ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু প্রতারক সাহেদ আমাদের কোনো টাকা ফেরত দেয়নি।
ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুদীপ কুমার দাস, সাহেদ ও তার সহযোগী শহিদুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, মামলাটি আমরা তদন্ত করে দেখছি। এতদিন দুপক্ষের মধ্যে আপোষের চেষ্টা হয়েছে। তাই আগে কোনো অভিযোগ তারা করেননি।
এদিকে, সাহেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ঢাকার একটি আদালত। তিন কোটি ৬৮ লাখ টাকা জালিয়াতির দুটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তারে এ পরোয়ানা জারি হয়।
ঢাকা মহানগ মাজিস্ট্রেট মো. মাইনুল ইসলামের আদালত এ পরোয়ানা জারি করে। মো. সাইফুল্লাহ মাসুদ নামে এক ব্যক্তি সাহেদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করলে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
অভিযোগকারী রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত মাসুদ এন্টারপ্রাইজের মালিক। তিনি পৃথক দুটি মামলায় সাহেদের বিরুদ্ধে তিন কোটি ৬৮ লাখ টাকার মালামাল কিনে তা পরিশোধ না করার অভিযোগ আনেন।
আদালত উত্তরা পশ্চিম থানার ওসিকে ১৩ আগস্টের মধ্যে সাহেদকে হাজির করার নির্দেশ দেয়।