সুনামগঞ্জে আশ্রয়কেন্দ্র ও খাবার সংকটে পানিবন্দি লাখো মানুষ

সুনামগঞ্জে নদ নদীর পানি কিছুটা কমলেও এখনো কমেনি হাওরের পানি। দুই দফা বন্যায় এখনো কয়েক লক্ষাধিক পানিবন্দি মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ঘরবাড়ি থেকে পানি না নামায় এখনো বাড়িঘরে ফিরতে পারছেন না মানুষজন। এতে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে জায়গা ও খাবার সংকটে বাড়ছে দুর্ভোগ।

এছাড়া অনেক জায়গায় এখনো ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন পানিবন্দী মানুষজন। এখনো পানি নামেনি পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে। জেলার ১১ উপজেলাতে বন্যায় পানিবন্দি রয়েছেন কয়েক লক্ষাধিক মানুষ। বিশুদ্ধ খাবার পানি ও ত্রাণ সংকটে চরম দুর্ভোগে বানভাসি এসব মানুষজন। এদিকে পানি এসব মানুষদের জন্য খোলা হয়েছে ৩৫৭টি আশ্রয় কেন্দ্র।

সদর উপজেলার কালিপুর গ্রামের মধু মিয়া বলেন ‘গত এক সপ্তাহ ধরি ঘরের ভিতর নৌকাতে থাকি, কেউ আইয়া দেখলোও না, কিছু দিলোওনা। 

একই গ্রামেরর আবদুর রশিদ বলেন ‘দুইবারের পানিতে ঘরবাড়ি সব লইয়া গেছেগি এখন না খাইয়া মরা লাগবো’। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে সুরমা নদীর পানি কিছুটা কমলেও এখন বিপদসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এছাড়া বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় কমতে শুরু করেছে নদীর পানি। তবে হাওরের পানিতে এখনো চাপ রয়েছে ফলে স্থিতিশীল রয়েছে হাওরে এলাকার বন্যা পরিস্থিতি। এখনো প্লাবিত রয়েছে শহরের বেশিরভাগ এলাকা। পাহাড়ি ঢল আর বৃষ্টিতে তলিয় গেছে জেলার বিভিন্ন সড়ক। 

জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল আহাদ জানান, বন্যার পানি ধীরগতিতে কমলেও কিছুটা উন্নতি হচ্ছে পরিস্থিতি। বন্যায় এখন পর্যন্ত দুহাজারেরও বেশি পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। পানিবন্দী মানুষদের জন্য ৪শ মেট্রিক টন চাল এবং নগদ ১২ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে আর আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে ৩৫৭ টি।