জীবনে ভুল হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে ভুল থেকে না শেখাই বড় ভুল। পৃথিবীর সফল মানুষেরা ভুল থেকে শিখেই সফল হয়েছেন। তাই ভুল করে ফেললে তার দায় অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা বোকামি। বরং দোষ স্বীকার করে নিয়ে তা থেকে শিক্ষাগ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। ভুল থেকে শেখার ধাপগুলো লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী গাজী ইমরান
ভুল স্বীকার করো
ভুল থেকে শেখার জন্য প্রথমেই আমাদের ভুল স্বীকার করে নিতে হবে। ভুলের ফল ভোগ করার মধ্য দিয়ে গেলেই আমাদের মনে তা দ্বিতীয়বার না করার ইচ্ছা জেগে ওঠে। অন্যের ঘাড়ে দায় চাপানোর চেষ্টা থাকলে সেই সদিচ্ছা জাগে না। তাই ভুল থেকে শিখতে চাইলে ভুল স্বীকার করে নিতে হবে।
স্বাভাবিকভাবে নাও
ভুল মানুষেরই হয়। তাই ভুলকে স্বাভাবিকভাবে নিতে শেখো। তাই ভুলের জন্য নিজেকে দায়ী করে ভেঙে পড়লে চলবে না। বরং ভুল করাটাই স্বাভাবিক মেনে নিয়ে মনস্থির করতে হবে যে, ভুল থেকে শেখার আছে।
কারণ খুঁজে বের করো
ভুলের কারণ খুঁজে বের করা গুরুত্বপূর্ণ। তা না হলে ভুল থেকে শেখার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। তাই সময় নিয়ে ভাবতে হবে, কোন অভ্যাস বা কাজের কারণে তুমি এমন ভুলে পতিত হলে। প্রয়োজনে ডায়েরিতে নোট করে নাও সেসব কারণ। এবার একটা একটা শুধরে নাও তোমার বদ-অভ্যাসগুলো। ভুল যত ছোটই হোক, অবহেলা কাম্য নয়। তবেই তুমি শিখতে পারবে।
নিন্দুকের কথা শোনো
কিছু লোক সব সময় তোমার দোষ ও খুঁত খুঁজতে ব্যস্ত থাকে। তাদের ঘৃণা করো না। বরং তাদের সমালোচনাকে পজেটিভলি নিতে শেখো। এতে তোমার কোনো ভুল যদি থেকেও থাকে, তা শুধরে নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। কারণ আমরা নিজের ছোটখাটো ভুল অনেক সময় এড়িয়ে যাই, কিন্তু নিন্দুকরা তাতেও ছাড় দেয় না। ফলে তাদের চোখে অনেক কিছু ধরা পড়ে, যা আমাদের নজরে আসে না।
ভেবে কাজ করো
একই ভুলে বারবার পতিত হওয়া থেকে বাঁচতে চাইলে ভেবে কাজ করতে হবে। গত ভুলের কারণ বের করে বিকল্প কী সমাধান হতে পারে তা ভাবতে হবে। এতে একই ভুল দ্বিতীয়বার হবে না এবং ভুলের সংখ্যা ক্রমেই কমে আসবে।
পরামর্শ চাও
ভুল শুধরানোর কোনো উপায় নিজে ভেবে ঠিক করতে না পারলে বিজ্ঞজনের কাছে পরামর্শ চাইতে হবে। মা-বাবা, ভাই-বোন এমনকি বন্ধু-বান্ধবের কাছ থেকেও পরামর্শ নেওয়া যায়। তাদের বাইরে আস্থা ও শ্রদ্ধার প্রতীক বিজ্ঞজন কেউ থাকলে তো কথাই নেই। অন্যের পরামর্শ তোমাকে ভুল থেকে শিখতে সহায়তা করবে।