সিদ্ধিরগঞ্জে শিক্ষার্থীদের স্কুলের বেতন পরিশোধের নির্দেশ, ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা

সিদ্ধিরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান রেবতী মোহন পাইলট স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের বেতন পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন কলেজের অধ্যক্ষ নুরুল ইসলাম।

অভিভাবকদের কাছে মোবাইলে মেসেজ পাঠিয়ে ও ফোন করে প্রথমে বিকাশে ও পরে প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে বকেয়া বেতন পরিশোধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। করোনা মহামারীর কারণে বন্ধ থাকা স্কুলের বেতন চাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।

সরকারের নির্দেশে গত মার্চ মাস থেকে সকল শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জের ১৭টি উচ্চ বিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

করোনাভাইরাস আতঙ্কে লকডাউনে থাকা অধিকাংশ মধ্যবিত্ত ও গরিব শ্রেণির মানুষ সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। নানা কারণে মধ্যবিত্তরা আর্থিক টানাপোড়েনে থাকা অবস্থায় শিক্ষার্থীর বেতন পরিশোধের জন্য স্কুল থেকে ফোন ও ম্যাসেজ দিয়ে চাপাচাপি করার কারণে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।

রেবতী মোহন স্কুলের এমন আচরণে ক্ষোভ বাড়ছে অভিভাবকদের মাঝে।

একটি সূত্র জানায়, রেবতী মোহন স্কুল এন্ড কলেজে দুই হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। এদের বেশির ভাগই গরীব, নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থী।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে একাধিক অভিভাবক জানান, প্রথমে মোবাইল ফোনে মেসেজ পাঠিয়ে ও পরে ফোন করে সন্তানের স্কুলের বেতন পরিশোধ করতে বলেছে স্কুলের শিক্ষক। বর্তমানে দু’বেলা ভাত কিংবা ঘর ভাড়া যোগাড় করতেই আমাদের নাভিশ্বাস। এখন বেতন পরিশোধ করব কিভাবে।

অভিভাবকরা আরও জানান, সরকার বেতন পরিশোধের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা না দিলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ বেতন চেয়েছে কেন তা তাদের জানা নেই।

প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ নূরুল ইসলাম ম্যাসেজ পাঠিয়ে বেতন চাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে জানান, যারা পারে তারা পরিশোধ করবে। অভিভাবকদের প্রতি আমাদের কোনো চাপ নেই।

প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি আব্দুর রব জানান, কেউ যদি আবেদনের মাধ্যমে বেতন প্রদানের বিষয়ে সহযোগিতা চায় আমরা সহযোগিতা করব।