কভিড হাসপাতালের হেল্পলাইনে ফোন করে দিনে দুইবার ৬৮ বছরের বৃদ্ধ বাবার খোঁজ নিতেন ছেলে। প্রতিবারই জবাব আসত, ‘রোগী সুস্থ, অল্প শ্বাসকষ্ট ছাড়া তেমন সমস্যা নেই’।
ভর্তির দিন চারেক পরে মঙ্গলবার বাবার সঙ্গে সরাসরি কথা বলার জন্য চিকিৎসাধীন ওয়ার্ডে ফোন দিতে গিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন ছেলে। কারণ ৪০৪ নম্বর বেডে তার বাবা নেই।
সরকারি হাসপাতালের প্রশাসনিক কার্যালয়ে বাবার খোঁজ নিতে গিয়ে ছেলে জানতে পারেন, ভর্তির দিন সন্ধ্যাতেই তিনি মারা গেছেন।
আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, পশ্চিমবঙ্গে কলকাতা মেডিকেল কলেজের এই ঘটনা ঘটেছে। মারা যাওয়া ব্যক্তি অজয় মান্না হাওড়ার সলপের বাসিন্দা।
ভারতের রাজ্যটিতে কভিড হাসপাতালের জরুরি বিভাগে অব্যবস্থাপনার এমন ভয়াবহ চিত্র উঠে এলো।
জানা যায়, গত এক বছর ধরে ফুসফুসের ক্যানসারে ভুগছিলেন অজয়। চ্যাটার্জিহাটে এসএসকেএমের রেসপিরেটরি মেডিসিনের এক চিকিৎসককে দেখাতেন তিনি।
বৃদ্ধের ছেলে রবীন জানান, ওই চিকিৎসকের পরামর্শে বৃহস্পতিবার ক্যানসার ব্লকে ভর্তি করানোর জন্য বাবাকে নিয়ে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু রোগীকে ভর্তি করানোর আগে এম আর বাঙুর অথবা কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে কভিড পরীক্ষা করিয়ে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়।
দুপুর ১টা নাগাদ কলকাতা মেডিকেল কলেজের গ্রিন বিল্ডিংয়ে রোগীকে ভর্তি করানো হয়। মেডিকেল কলেজ সূত্রে খবর, বৃদ্ধের রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কম ছিল। সে জন্য করোনা সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রিন ব্লিডিংয়ে ভর্তি করানো হয়েছিল।
ভর্তির পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রবীনকে একটি হেল্পলাইন নম্বর দেয়। প্রতিদিন সেই নম্বরে ফোন করে দিনে দু’বার বাবার খবর নিতেন তিনি।
রবীন জানান, কভিড পরীক্ষার রিপোর্ট এসেছে কি না, তা তিনি সোমবার হেল্পলাইনে জানতে চেয়েছিলেন। যার প্রেক্ষিতে এ দিন হাসপাতালে এসে তাঁকে খোঁজ নিতে বলা হয়। এরপরেই হাসপাতালে এসে বাবার মৃত্যুসংবাদ পান ছেলে!
তার ভাষ্য, বাবার সঙ্গে কথা বলার জন্য ওয়ার্ড বয়ের হাতে একটা ফোন পাঠিয়েছিলাম। ওয়ার্ড বয় বলল, বাবা ৪০৪ নম্বর বেডে নেই। বাবা কোথায় জানতে চাইলে অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার বললেন, ভর্তির দিন সন্ধ্যাতেই বাবা মারা গিয়েছেন!’
পিতৃহারা ছেলের প্রশ্ন, এত দিন কার সুস্থতার খবর হেল্পলাইন নম্বরের কর্মীরা দিতেন?
মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ইন্দ্রনীল বিশ্বাস জানান, রোগীর মৃত্যু সংবাদ দেওয়ার জন্য পরিজনেরা যে ফোন নম্বর দিয়েছিলেন তাতে যোগাযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু নম্বরটি ভুল ছিল। এরপর নিয়মানুযায়ী বিষয়টি হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়িতে জানানো হয়।
হেল্পলাইন নম্বরের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শয্যা নম্বর ধরে রোগীর খবর নিয়ে ভুল হতে পারে। নাম, বয়স ঠিকমতো বলা হয়েছিল কি না, তা দেখতে হবে।