কুড়িগ্রামে বন্যার পানিতে ডুবছে গ্রামের পর গ্রাম

ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলে ফেঁপে ওঠায় আরো নতুন নতুন এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। এ অবস্থায় কুড়িগ্রামে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। একের পর এক ডুবছে গ্রাম, বাজার, রাস্তাঘাট।

জেলার রাজীবপুর উপজেলা পরিষদ চত্বর ও ভবনে বন্যার পানি ঢুকেছে। চর রাজীবপুর বাজারের পুরোটাই এখন পানি থৈ থৈ করছে। চর রাজীবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নবীরুল ইসলাম জানান, তার উপজেলার ১৭ হাজার পরিবারের ৩৫ হাজার মানুষ এখন পানিবন্দি। তারা ১৬ মেট্টিকটন চাল ও ৪০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বুধবার খেকে বিতরণ শুরু করেছেন। এসব মানুষের জন্য আরো ত্রাণ দরকার বলেও তিনি জানিয়েছেন।

চিলমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলী বীর বিক্রম জানান, তার উপজেলায় ৯০ হাজার মানুষ এখন পানিবন্দি। সবকটি ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্রের পানি ঢুকতে শুরু করেছে। কয়েক হাজার ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ইতিমধ্যে পানি প্রবেশ করেছে। এলাকার বন্যাকবলিত মানুষজনের মাঝে খাদ্য ও সুপেয় পানির তীব্র সংকট রয়েছে।

উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন হানিয়েছেন, তার ইউনিয়নে ১৮ হাজার মানুষ এখন পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। বুধবার মাত্র ৩০ জন পরিবারকে শুকনো খাবারের প্যাকেট দিতে পেরেছেন।

এদিকে, ধরলার পানি কমতে শুরু করলেও তা এখনো বিপদসীমার অনেক উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ অবস্থায় জেলায় আড়াই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বিভিন্নস্থানে আশ্রয় নেওয়া মানুষজনের মাঝে খাদ্য ও সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ধরলায় তীব্র ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। 

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম জানান, বুধবার বিকেল ৩ টায় কুড়িগ্রামে সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি বিপদসীমার ৮৬ সেন্টিমিটার, চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ১০৩ সেন্টিমিটার ও নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৯৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা দীলিপ কুমার সাহা জানান, জেলায় বন্যা কবলিত মানুষের জন্য ৯ উপজেলায় ১৭০ মেট্রিকটন চাল, শুকনো খাবারের জন্য ৪ লাখ টাকা, শিশু খাদ্যের জন্য ২ লাখ, গো-খাদ্যের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।