করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসায় প্রতারণাসহ নানা অভিযোগে গ্রেপ্তার রিজেন্ট হাসপাতাল ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদের গোপন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৪৬ হাজার টাকার জাল নোট উদ্ধার করেছে র্যাব।
আজ বুধবার দুপুর ৩টার দিকে র্যাব সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) আব্দুল্লাহ আল মামুন এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, গ্রেফতারকৃত সাহেদের দেয়া তথ্যানুযায়ী রাজধানীর উত্তরার একটি বহুতল বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এসব জাল টাকার নোট উদ্ধার করা হয়।
সাহেদকে গ্রেফতারের পর থেকে উত্তরা পশ্চিম থানার সেক্টর -১১ এর ২০ নম্বর সড়কের ৬২ নম্বর ‘সিএইচএল বাইতুল ইহসান’ (কুমিল্লা হোল্ডিং এ্যাপার্টমেন্ট) ভবনটি ঘিরে রাখে র্যাব সদস্যরা। পরবর্তীতে সাহেদ করিমকে সাথে নিয়ে ওই বহুতল ভবনের ৪ (এ) ফ্লাটে অভিযান চালায় র্যাব । দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে অভিযান শুরু হয়ে ১টার দিকে অভিযান শেষ হয়।
দুপুর ১২টা ২৬ মিনিটে র্যাব সাহেদকে নিয়ে ওই ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে। তখন তিনি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট পরা ছিলেন। অভিযানকালে র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমও উপস্থিত ছিলেন।
উত্তরায় অভিযানে নেতৃত্ব দেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান লে. কর্ণেল সারোয়ার বিন কাশেম। এছাড়া র্যাব সদরদপ্তর এবং র্যাব-১ এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সঙ্গে ছিলেন।
অভিযান শেষে সাহেদকে নিয়ে র্যাব সদস্যরা সদর দপ্তরে ফিরে আসেন।
র্যাব সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিঞ্জাসাবাদের পর দ্বিতীয় দফায় সাহেদকে ফের র্যাব সদর দফতরে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
এর আগে, আজ বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকা থেকে একটি অবৈধ বিদেশী পিস্তল ও ম্যাগজিন ভর্তি গুলিসহ তাকে গ্রেফতার করে র্যাব । এরপর সেখান থেকে তাকে র্যাবের নিজস্ব হেলিকপ্টারযোগে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কোমরপুর গ্রামের লবঙ্গবতী নদীর তীরবর্তী সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
আজ সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের সময় সাহেদকে র্যাব সদরদপ্তরে নেয়া হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সাহেদ র্যাব হেডকোয়ার্টার্সে রয়েছেন। জিজ্ঞাবাদ শেষে তাকে ডিএমপি’র তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্থান্তর করা হবে বলে জানান র্যাবের ডিজি।