করোনা জয়ের পর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চলে গেলেন প্রবীণ চিকিৎসক ও ভাষা সংগ্রামী ডা. সাঈদ হায়দার (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
বুধবার বিকেল পৌনে চারটায় রাজধানীর উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর। বাদ মাগরিক উত্তরার চার নম্বর সেক্টরে তাকে দাফন করা হয়।
ডা. সাঈদ হায়দারের বড় ছেলে বারডেম হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. আশরাফ হায়দার দেশ রূপান্তরকে বলেন, কিছুদিন আগে আমাদের পরিবারের সবাই করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন। বাবাও করোনা আক্রান্ত হন, পরে তিনি সুস্থ হন। পর পর দুইবার ওনার করোনা নেগেটিভ আসে। এর এক সপ্তাহ পরে তিনি নিউমোনিয়াতে আক্রান্ত হন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মূলত করোনা আক্রান্ত হবার পর শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। নিউমুনিয়া আক্রান্ত হয়ে তিনি আর সুস্থ হতে পারেননি।
একুশে পদক জয়ী সাঈদ হায়দার ছিলেন প্রথম শহীদ মিনারের সহযোগী নকশাকার। তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ভাষা আন্দোলনে তার অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ২০১৬ তাকে একুশে পদক প্রদান করে।
পাবনা শহরে জন্ম সাঈদ হায়দারের। তিনি কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে আইএ পাশ করেন। পরে কলকাতা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হলেও দেশ ভাগের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করেন। তিনি সহশিক্ষার্থীদের মধ্যে সবার বয়োজ্যেষ্ঠ ছিলেন। ভাষা আন্দোলন সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ২৩শে ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ছাত্ররা প্রথম শহীদ মিনার গড়ে তোলেন। এর নকশা করেন বদরুল আলম, বদরুল আলমকে সহযোগিতা করেছিলেন সাঈদ হায়দার, যা ২৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সেনাবাহিনী ধবংস করে দেয়।