বস্তা ভেবে বাঘের পিঠে হাত বুলিয়ে দিলেন বৃদ্ধা

সকাল সকাল ছাগলের ঘরে ঢুকেছিলেন এক বৃদ্ধা। মেঝেতে পড়ে থাকা বস্তা ভেবে বাঘের পিঠে হাত বুলিয়ে দেন তিনি। অবশ্য এর পর কোনো অঘটন ঘটেনি।

এ ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের আগরাতলি রেঞ্জের কান্ধুলিমারির। আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার রাতটুকু ছাগলের ঘরের কাটিয়ে সকালে নিজেই চলে যায়। তবে পিঠে হাত বুলিয়ে দেওয়া বৃদ্ধাকেই কিছুটি করেনি সে।

এখানে শেষ নয়। স্থানীয় বন বিভাগ জানায়, বানভাসি কাজিরাঙা থেকে সোমবার বেরিয়ে আসা তিনটা বাঘ তিন দিন ধরে নাজেহাল করছে তাদের।

আরেকটি ঘটনা এমন যে, বান্দরডুবির এক নারী রান্না চাপাতে গিয়ে দেখেন রান্নাঘরে বসে আছে বাঘিনি! এ ছাড়া ৩৭ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে আশ্রয় নেওয়া মারমুখী আরেকটি বাঘের ভয়ে বন্ধ রাখতে হয় চলাচল। পরে অবশ্য পাহাড়ে চলে যায়।

রান্নাঘরে ঢুকে বসে থাকা বাঘিনি উদ্ধারের অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন পশু চিকিৎসক সামসুল আলী। তিনি জানান, বুধবার বাড়ির সব পরিবারকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আশপাশের মানুষকেও আটকে রাখা হয়।

ভাবা হয়েছিল, সকাল হলে বাঘিনি নিজেই চলে যাবে। কিন্তু বেরোনোর কোনো লক্ষণই ছিল না। বাধ্য হয়েই গুলি ছুড়ে ঘুম পাড়িয়ে বছর দুই বয়সী ওই বাঘিনিকে নিয়ে যাওয়া হয় পশু উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে। সামসুল জানান, বাঘিনির ঘুম ভেঙেছে। এখন সে বিপদমুক্ত।

মূলত বেড়ে চলা বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এ এলাকার প্রাণ। কাজিরাঙায় এখন ১৫৩টি বনশিবির জলমগ্ন। মৃত প্রাণীর সংখ্যা ৬৬টি। অসমে ২৬টি জেলায় বন্যাক্রান্ত ৩৬ লাখ মানুষ। ৬২৯ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন ৩৬ হাজারের বেশি মানুষ।