মডেল টেস্ট : ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা
(গতকালের পর)
ঘ. নিচের প্রশ্নের উত্তর দাও
১. ইবাদত কী? ইবাদত করার সময় তুমি নিষ্ঠাবান ও আন্তরিক হবে কেন? পাঁচটি বাক্যে লেখো।
২. পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের নাম লেখো। তুমি কোন কোন সময়ে সালাত আদায় করবে না?
৩. সালাত শব্দের অর্থ কী? যেকোনো চার ওয়াক্ত সালাতের সময় বর্ণনা করো।
৪. সাহু সিজদাহ কী? সাহু সিজদাহ কেন করবে? সাহু সিজদাহ করার নিয়ম দুই বাক্যে লেখো।
৫. সালাতের আরকান কাকে বলে। সালাতের ভেতরে চারটি ফরজ কাজ লেখো।
৬. সালাতের ফরজ কটি? সালাত শুরুর আগে করণীয় পাঁচটি ফরজ কাজ লেখো।
৭. ওয়াজিব মানে কী? সালাতের ওয়াজিব কটি? সালাতের চারটি ওয়াজিব লেখো।
৮. মসজিদ কার ঘর? তুমি মসজিদে থাকা অবস্থায় যেসব আদব মেনে চলো সে সম্পর্কে চারটি বাক্য লেখো।
উত্তর
১. আল্লাহতায়ালার আনুগত্য স্বীকার করে তার যাবতীয় আদেশ-নিষেধ মেনে চলাই ইবাদত।
ধর্মীয় অনুশাসন পালনে আমার নিষ্ঠা ও আন্তরিক হওয়ার কারণ
ক. নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা না থাকলে, ইবাদতের কোনো মূল্য নেই।
খ. জাকাত দিলে আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।
গ. সাওম আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।
ঘ. হজের সুফল পাওয়া যাবে না।
ঙ. ধর্মীয় অনুশাসন পালনে কোনো সুফল পাওয়া যাবে না।
২. পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের নাম হলো ফজর, জোহর, আসর, মাগরিব ও এশা।
আমি যে সময়ে সালাত আদায় করব না
ক. ডাশ সূর্যোদয়ের সময়।
খ. ঠিক দ্বিপ্রহরের সময়।
গ. সূর্যাস্তের সময়।
৩. সালাত শব্দের অর্থ নত হওয়া, বিনয়-বিনম্র হওয়া, দোয়া করা, ক্ষমাপ্রার্থনা করা, দরুদ পড়া।
যেকোনো চার ওয়াক্ত সালাতের সময়
ক. ফজর : ফজর সালাতের সময় শুরু হয় সুবহে সাদিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এবং সূর্য উদয়ের পূর্ব পর্যন্ত এর সময় থাকে।
খ. জোহর : দুপুরে সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়লেই জোহরের ওয়াক্ত শুরু হয়। ছায়া আসলি বাদে কোনো বস্তুর ছায়া দ্বিগুণ হওয়া পর্যন্ত জোহরের সময় থাকে।
গ. আসর : জোহরের সময় শেষ হলেই আসর শুরু হয় এবং সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত বিদ্যমান থাকে।
ঘ. মাগরিব : সূর্যাস্তের পর থেকে মাগরিবের সময় শুরু হয় এবং পশ্চিম আকাশে যতক্ষণ লালিমা বিদ্যমান থাকে ততক্ষণ এর সময় থাকে।
৪. সাহু সিজদাহ হলো ভুল সংশোধনের সিজদাহ। নামাজে ভুলে কোনো ওয়াজিব বাদ পড়লে তা সংশোধনের জন্য সাহু সিজদাহ করব।
সাহু সিজদাহ করার নিয়ম
ক. সালাতের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পড়ার পর শুধু ডান দিকে সালাম ফেরাব।
খ. অতঃপর আল্লাহু আকবর বলে দুটি সিজদাহ করব।
৫. সালাতের ভেতরে যে ফরজ কাজগুলো আছে সেগুলোকে সালাতের আরকান বলে।
সালাতের ভেতরে করণীয় চারটি ফরজ কাজ হলো।
ক. তাকবিরে তাহরিমা আল্লাহ আকবর বলে সালাত শুরু করা।
খ. কেয়াম দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা। তবে দাঁড়াতে সক্ষম না হলে বসে বা শুয়ে যেকোনো অবস্থায় সালাত আদায় করতে হয়।
গ. কিরাত কোরআন মজিদের কিছু অংশ পাঠ করা।
ঘ. রুকু করা। ঙ. সিজদাহ করা।
৬. সালাতের ফরজ ১৪টি
সালাত শুরুর আগে করণীয় পাঁচটি ফরজ কাজ হলো
ক. শরীর পাক : প্রয়োজনমতো অজু, গোসল বা তায়াম্মুমের মাধ্যমে শরীর পাক-পবিত্র করা।
খ. কাপড় পাক : পরিধানের কাপড় পাক হওয়া।
গ. জায়গা পাক : সালাত আদায়ের স্থান পাক হওয়া।
ঘ. কিবলামুখী হওয়া : কাবার দিকে মুখ করে সালাত আদায় করা।
ঙ. নিয়ত করা : যে ওয়াক্তের সালাত আদায় করবে মনে মনে তার নিয়ত করা।
৭. ওয়াজিব মানে অবশ্যকরণীয়।
সালাতের ওয়াজিব ১৪টি।
সালাতের চারটি ওয়াজিব উল্লেখ করা হলো
ক. প্রত্যেক রাকাতে সুরা ফাতিহা পড়া।
খ. ফাতিহার সঙ্গে অন্য সুরা বা কোরআনের কিছু অংশ পড়া।
গ. সালাতের ফরজ ও ওয়াজিবগুলো আদায় করার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা।
ঘ. রুকু করার পর সোজা হয়ে দাঁড়ানো।
৮. মসজিদ আল্লাহর ঘর।
মসজিদে থাকা অবস্থায় আমি যেসব আদব মেনে চলি তা হলো
ক. লোকজনকে ডিঙিয়ে সামনের দিকে যাওয়া থেকে বিরত থাকি।
খ. নীরবতা পালন করি এবং উচ্চৈঃস্বরে কথা বলা থেকে বিরত থাকি।
গ. কোনো অবস্থাতেই হইচই, শোরগোল করি না।
ঘ. ধর্মীয় কথাবার্তা শুনি।